এবিএম মিজানুর রহমান: অসাধু জেলেরা বিষ দিয়ে মাছ ধরে। সেই বিষ মেশানো পানি পান করে নয়টি মহিষের মৃত্যু হয়েছে। অসুস্থ হয়ে পড়েছে আরও ছয়টি মহিষ। এমন ঘটনা ঘটেছে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কাছিপাড়া ইউনিয়নের নদী বেষ্টিত চর রঘুনুদ্দিন এলাকায়।
ওই নয়টি মহিষের মালিক হলেন বরিশাল বন্দর থানার ভেদুরিয়া এলাকার মো. আবদুর রশিদ হাওলাদার, মো. সোহাগ হোসেন ও মো. মাসুদ হোসেন। নয়টি মহিষের মধ্যে দুটি আবদুর রশিদের, চারটি সোহাগের ও তিনটি মাসুদের।
ভুক্তভোগী ও গবাদিপশু ব্যবসায়ীদের ভাষ্যমতে মহিষ নয়টির মূল্য হবে কমপক্ষে ২০ লাখ টাকা।
ভুক্তভাগী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বরিশালের বন্দর থানার ভেদুরিয়া এলাকার বেশ কয়েকজন মহিষ পালক তাঁদের মহিষের পাল নিয়ে বর্ষা মৌসুমে বাউফল উপজেলার কাছিপাড়া ইউনিয়নের উম্মুক্ত চরগোপালিয়া ও চর রঘুনুদ্দিন এলাকার ঘাস খাওয়ানোর জন্য আসেন। চলতি বছরের জুলাই মাসে ৮০ টি মহিষ নিয়ে ভেদুরিয়া এলাকার আবদুর রশিদ হাওলাদার, মো. সোহাগ হোসেন ও মো. মাসুদ হোসেন আসেন। গত বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে মহিষের পালের খোঁজ নিয়ে দেখতে পান চর রঘুনুদ্দিন এলাকায় নয়টি মহিষ অসুস্থ হয়ে পড়ে আছে। কোনো কিছু বুজে ওঠার আগেই নয়টি মহিষ মারা যায়। পরে আরও ছয়টি মহিষ অসুস্থ হয়ে পড়ে। অসুস্থ ওই মহিষের চিকিৎসার জন্য আজ শুক্রবার সকালে বরিশালের বাকেরগঞ্জ প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরে যান। ওখানের চিকিৎসক এনে চিকিৎসা করানোর চেষ্টা করছেন।
ভুক্তভোগী আবদুর রশিদ, সোহাগ হোসেন ও মাসুদ অভিন্নভাবে বলেন,‘তাঁদের মহিষের কোনো অসুখ ছিল না।ওই চর এলাকায় কিছু অসাধু জেলেরা বিষ দিয়ে মাছ নিধন করে থাকে। ওই বিষ মিশ্রিত পানি পান করে তাঁদের নয়টি মহিষ মারা গেছে। আরও ছয়টি মহিষ অসুস্থ হয়েছে।’
কাছিপাড়া ইউনিয়নিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য (মেম্বার) মো. আইয়ুব আলী রুবেল দুঃখ প্রকাশ করে বলেন,‘সরেজমিনে গিয়েছি,ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক। অসাধু জেলোর যাতে বিষ প্রয়োগ করে উম্মুক্ত জলাশয়ের মাছ ধরতে না পারে সেদিকে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মাদ আকতারুজ্জামান সরকার বলেন,‘বিষ প্রয়োগ করে উম্মুক্ত জলাশয়ের মাছ ধরার কোনো সুযোগ নাই। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’









