পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় একটি অবৈধ ইটভাটা রক্ষার উদ্দেশ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ওয়াপদা বেড়িবাঁধের নকশা পরিবর্তনের অভিযোগ উঠেছে। এতে অন্তত ৮ থেকে ১০টি বসতঘর ভাঙনের মুখে পড়েছে এবং প্রায় ২০–২৫টি পরিবার উচ্ছেদের ঝুঁকিতে রয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, চরগরবদি ও সন্তোষদী মৌজায় ২০২৩ সালে প্রণীত ম্যাপ অনুযায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ না করে হঠাৎ করে নকশা পরিবর্তন করা হয়েছে। এতে দীর্ঘদিনের বসতবাড়িগুলো উচ্ছেদের হুমকির মুখে পড়েছে। কোনো প্রকার নোটিশ বা ভূমি অধিগ্রহণ ছাড়াই ঘর ভাঙার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, তারা গত ৩৫ থেকে ৪০ বছর ধরে ওই এলাকায় বসবাস করে আসছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারি খাস জমিতে স্থাপিত একটি অবৈধ ইটভাটাকে রক্ষা করতেই পরিকল্পিতভাবে বেড়িবাঁধের নকশা পরিবর্তন করা হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ‘ফেমাস ব্রিক্স’-এর মালিক আবদুল কাইউম বলেন, বেড়িবাঁধের নকশা পরিবর্তনের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
এ বিষয়ে দুমকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছাঃ ফরিদা সুলতানা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি বিবেচনায় ওয়াপদা বেড়িবাঁধের নির্মাণকাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন।
পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রাকিব মিয়া জানান, সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সবার জন্য গ্রহণযোগ্য স্থানে বেড়িবাঁধ নির্মাণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে বেড়িবাঁধ নির্মাণ নিয়ে বিরোধ ও অভিযোগকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে ইটভাটাসংশ্লিষ্টদের হামলায় মিরাজ হাওলাদার, জব্বার হাং, ইতি বেগমসহ অন্তত ছয়জন আহত হন। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হামলার শিকার সোহরাব মীরা জানান, এ ঘটনায় দুমকি থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
দুমকি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ সেলিম উদ্দিন বলেন, “এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”









