সরকারের উপসচিব, পটুয়াখালী জেলার স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক ও পটুয়াখালী পৌরসভার প্রশাসক জুয়েল রানা বলেছেন, “আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবার ব্যতিক্রমধর্মী এবং অনেকের জন্য সম্পূর্ণ নতুন একটি অভিজ্ঞতা। এ কারণে এই নির্বাচনের দিনটি কার্যত একটি গণভোটের মতো গুরুত্ব বহন করছে। অনেক নাগরিকের জীবনে এটি হতে পারে প্রথম এবং শেষ গণভোট। তাই ১২ ফেব্রুয়ারি আমাদের সবার প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব হবে সকাল সকাল ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করা।”
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিকেলে পটুয়াখালী পৌর ভবনের মিলনায়তনে স্থানীয় জনগণকে গণভোট ও ভোটাধিকার সম্পর্কে সচেতন করতে আয়োজিত এক অবহিতকরণ সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এসময় পৌর এলাকার শীতার্ত পাঁচ শতাধিক নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে উঞ্চতার জন্য উন্নত মানের চাদর বিতরণ করা হয়েছে।
পৌর প্রশাসক জুয়েল রানা তার বক্তব্যে বলেন, ভোটাধিকার একটি সাংবিধানিক অধিকার এবং গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার অন্যতম প্রধান মাধ্যম। জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া একটি গ্রহণযোগ্য ও অর্থবহ নির্বাচন সম্ভব নয়। তিনি বলেন, “ভোট দেওয়া শুধু ব্যক্তিগত অধিকার নয়, এটি রাষ্ট্র গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও বটে। তাই কোনো প্রকার ভয়ভীতি বা গুজবে কান না দিয়ে সবাইকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট কেন্দ্রে উপস্থিত হতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, এবারের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রশাসন সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে যাতে ভোটাররা নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিতে পারেন। ভোট কেন্দ্রগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি প্রশাসনের সার্বক্ষণিক তদারকি থাকবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।
সভায় গণভোটের পদ্ধতি, ভোট প্রদানের নিয়ম, ভোট কেন্দ্রের শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং ভোটারদের করণীয় বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে তরুণ ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় উপস্থিত পৌর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল কাইয়ুম বলেন, পৌরসভার পক্ষ থেকে ভোটারদের সচেতন করতে বিভিন্ন ওয়ার্ডে প্রচারণামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। তিনি জানান, ভোটারদের যাতায়াত ও তথ্য সহায়তায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পৌরসভার মেডিকেল অফিসার ডা. একরামুল নাহিদ স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, ভোটকেন্দ্রে দীর্ঘ সময় অবস্থানের ক্ষেত্রে বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ সঙ্গে রাখার পরামর্শ দেন।
এসময় পৌর সচিব মাসুম বিল্লাহ, পৌর প্রশাসনিক কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন ওয়ার্ডের প্রতিনিধিরা, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক ও নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে উপস্থিত সবাই আসন্ন নির্বাচনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।









