পটুয়াখালীতে পারিবারিক বিরোধের জেরে বরগুনা জেলা বিশেষ শাখা (ডিএসবি) পুলিশের এক সদস্য ও তার ছোট ভাইয়ের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলার অভিযোগ উঠেছে। রামদা ও লোহার রড নিয়ে ১০–১২ জন দুর্বৃত্তের অতর্কিত হামলায় ডিএসবি সদস্য শহিদুল ইসলাম গুরুতর আহত হন এবং তার ছোট ভাই আনিচুর রহমান মনির আহত হন। গুরুতর আহত শহিদুল ইসলাম বরগুনা ডিএসবিতে কর্মরত আছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত শহিদুল ইসলামের স্ত্রী নুরজাহান বেগম বিথী বাদী হয়ে পটুয়াখালী সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
হামলার শিকার হওয়া শহিদুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন পারিবারিক সমস্যার কারণে বাবার সঙ্গে মনোমালিন্য চলছিল। সেই সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে তিনি দেড় বছর পর বাড়িতে যান। ওইদিন তার বাবার সঙ্গে দেখা করে শান্তিপূর্ণভাবে ফিরে আসেন। এর পরেদিন অর্থাৎ ১০ জানুয়ারি আবার বাবার সঙ্গে দেখা করতে গেলে পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নেয়।
বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় এক আত্মীয় তাদের সতর্ক করে জানান, রড ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একদল লোক তাদের ওপর হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
তিনি আরও জানান, আওয়ামী লীগের এক নেতাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করায় সেই ঘটনার দোষ তাদের ওপর চাপানো হচ্ছে।
শহিদুল ইসলাম বলেন, “আমরা ধীরে ধীরে বাড়ি থেকে বের হচ্ছিলাম। আমার ছোট ভাই বাইক প্রস্তুত করছিল। ঠিক তখনই পিছন দিক থেকে নারী-পুরুষ মিলিয়ে ১০–১২ জন রামদা ও রড নিয়ে আমাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।”
হামলায় শহিদুল ইসলামের মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে এবং একটি হাত ভেঙে যায়। তার ছোট ভাই হেলমেট পরা থাকায় প্রাণে বাঁচলেও তাকেও নির্মমভাবে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন শহিদুল ইসলাম।
ঘটনার পর স্থানীয়রা আহত দুই ভাইকে উদ্ধার করে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে আহত আনিচুর রহমান মনির বাসায় আসেন। অন্যদিকে গুরুতর আহত অবস্থায় বরগুনা ডিএসবিতে কর্মরত শহিদুল ইসলামকে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
তিনি বলেন, “আল্লাহ আমাকে মরার ঘর থেকে বাঁচিয়ে এনেছেন। সেদিন আমাদের মেরে ফেলাই ছিল তাদের পরিকল্পনা। আমি হাত দিয়ে আঘাত ঠেকিয়েছি, না হলে আমরা দু’ভাই সেখানেই শেষ হয়ে যেতাম।”
হামলাকারী হিসেবে তিনি সোলেমান তালুকদার, সুমন তালুকদার, সেলিম তালুকদার, রহমান তালুকদার ও শানু তালুকদারের নাম উল্লেখ করেন। তার দাবি, তারা সবাই স্থানীয়ভাবে পরিচিত আওয়ামী লীগ পরিবারের সদস্য এবং দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাদের পরিবারকে হয়রানি করে আসছে।
শহিদুল ইসলাম আরও জানান, “আমরা বহুবার হামলা ও মামলার শিকার হয়েছি। বাড়িতে শান্তিতে থাকার সুযোগ নেই। দেড় বছর পর বাড়ি গিয়েই আবার এমন হামলার মুখে পড়লাম।”
পটুয়াখালী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন, এ বিষয়ে থানায় মামলা রুজু হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে আমাদের কার্যক্রম চলছে।









