আমতলী প্রতিনিধি: বরগুনার আমতলী উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের উত্তর তক্তাবুনিয়া গ্রামে দুই ভাইয়ের জমিজমা নিয়ে দ্বন্দ দুই থামাতে গিয়ে চাচাত ভাই জহিরুল ইসলাম (৪০) নামে একজন খুন হয়েছে।
আজ শনিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নিজ বাড়ির সামনে ওই খুনের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ওই হত্যাকান্ডের ঘটনায় মো.মুনসুর সিকদার (৬৫) আটক করেছে। ওই সময় হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ছুরিসহ হত্যাকারীকে আটক করে এবং তার স্ত্রীকে জিজ্ঞাষাবাদ করার জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের উত্তর তক্তাবুনিয়া গ্রামের মুনসুর সিকদার ও আপন ভাই ফরিদ সিকদারের মধ্যে পৈত্রিক সুত্রে পাওয়া ২৬ শতাংশ (৮ কড়া) জমি নিয়ে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ বছর ধরে দ্বন্দ চলে আসছে। এ নিয়ে একাধিকবার শালিস বৈঠকও হয়েছে। তাতেও কোন সুরহা হয়নি।
ঘটনার দিন শনিবার সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে ওই দ্বন্দের জের ধরে মুনসুর সিকদার ছুরি নিয়ে তার আপন ভাই ফরিদ সিকদারকে হত্যার উদ্দেশে ধাওয়া করে।ওই সময় আপন চাচাত ভাই, মৃত্যু শামসু সিকদারের ছেলে জহিরুল ইসলাম সিকদার (৪০) বাঁধা দিলে মুনসুর সিকদার তার বাম পাজরে ধাড়ালো ছুরি বসিয়ে দেন। সাথে সাথেই জহিরুল ইসলাম শিকদার মাটিতে লুটিয়ে পরেন।
স্থানীয় ও স্বজনরা আহত জহিরুলকে উদ্ধার করে আমতলী হাসপাতালে নিয়ে আসলে হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক রাশেদ মাহমুদ রোকনুজ্জামান তাকে মৃত্যু ঘোষণা করেন।
শালিশদার মো. লিমন হাওলাদার বলেন, মুনসুর সিকদার ও ফরিদ সিকদারের মধ্যে ২৬ শতাংশ (৮ কড়া) জমি নিয়ে ২৫ থেকে ৩০ বছর ধরে দ্বন্দ চলে আসছে। আমি ওই দ্বন্দ নিরসনের জন্য চেষ্টা করেছি কিন্তু কোন সুরহা করা যায়নি। তিনি আরো বলেন, কাগজপত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, মুনসুর হাওলাদারের কোন জমি নেই। তারপরও তিনি দাবী করছেন।
নিহত জহিরুলের স্ত্রী নুপুর বেগম কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, মোর স্বামীরে কিসের লইগ্যা ওরা হত্যা করছে, আমি এই হত্যার বিচার চাই।
জহিরুলের মা রোকেয়া বেগম বার বার মুর্ছা যাচ্ছিলেন আর বিলাপ করছিলেন, মুই এহন কারে বাপ কইয়া ডাকমু ও মোর বাপ তুই মোরে একবার মা কইয়া ডাক দে। কথাগুলো বলছিলেন আর বার বার বুক চাপরাচ্ছিলেন। এঘটনায় জড়িতদের তিনি ফাঁসি দাবী করেন।
আমতলী হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক রাশেদ মাহমুদ রোকনুজ্জামন বলেন, নিহত জহিরুলের বাম পাজরে ধারালো ছুড়ির আঘাত রয়েছে। হাসপাতালে আনার পূর্বেই তার মৃত্যু হয়েছে।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মুনসুর সিকদারকে হত্যার ব্যবহৃত ছুরিসহ আটক করা হয়েছে। ওই সময় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার স্ত্রী শেফালি বেগমকেও থানায় আনা হয়েছে। হাসপাতাল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য বরগুনার জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ওই ঘটনায় হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে।









