বঙ্গোপসাগরে ইলিশ ধরার ট্রলার ডুবে নিখোঁজ থাকা বাবা ও ছেলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) রাত এবং গতকাল শুক্রবার সকালে ডুবে যাওয়া ট্রলারের মধ্য থেকে তাঁদের মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয় জেলে ও স্বজনেরা। ভুক্তভোগীরা হলেন,রাঙ্গাবালী উপজেলার বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের চরগঙ্গা বাঁধঘাট এলাকার মো. শামীম জোমাদ্দার(৪০) ও তাঁর ১১ বছর বয়সী ছেলে সিয়াম। এরআগে গত বুধবার রাতে বঙ্গোপসাগরের পাইপবয়া এলাকায় ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটে।
নিহত জেলে শামীম জোমাদ্দাররের বাবা ভুক্তভোগী মো. সিদ্দিক জোমাদ্দার(৫৫) বলেন,দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার ট্রলারে তিনিসহ মোট ৬ জন মাঝিমাল্লা ছিল। গত বুধবার রাতে ঝড় ও প্রচন্ড ঢেউয়ের তান্ডবে তাঁর মালিকানাধীন ট্রলারটি ছিদ্র হয়ে পানি ঢুকে সাগরে নিমজ্জিত হয়। ডুবে যাওয়ার পর তিনিসহ চারজন অন্য জেলেদের সহতায়তায় উদ্ধার হলেও তাঁর ছেলে শামীম ও ১১ বছর বয়সী নাতি সিয়াম নিখোঁজ ছিল। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ডুবে যাওয়া ট্রলারের মধ্য তাঁদের মরদেহ খুঁজে পায় স্থানীয় জেলে ও স্বজনেরা।
জীবিত উদ্ধার জেলে শাওন হাওলাদার জানান,‘গত রোববার (২১ ডিসেম্বর) সকাল ১০টার দিকে রাঙ্গাবালী উপজেলার বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের চরগঙ্গা বাঁধঘাট থেকে এমভি সিদ্দিক নামের একটি ট্রলার নিয়ে বঙ্গোপসাগরে ইলিশ ধরতে যায় তাঁরা। তাঁদের ট্রলারে মোট ৬ জন মাঝিমাল্লা ছিল।
সাগরে পৌঁছে দুইদিন মাছ ধরার পর গত বুধবার(২৪ ডিসেম্বর) রাতে পাইপবয়া (জেলেদের দেয়া নাম) এলাকায় ট্রলার নোঙ্গর করে তাঁরা ঘুমিয়ে পড়ে। গভীর রাতে ঝড় ও ঢেউয়ের তান্ডবে ট্রলারে নিচের অংশ ছিদ্র হয়ে পানি ঢুকতে শুরু করে। এরপর ট্রলারটি উল্টে যায়। এসময় উল্টে যাওয়া ট্রলারে নিখোঁজ থাকার শামীমের বাবা মো. সিদ্দিক জোমাদ্দার(৫৫), মো. শাওন(২৪), মো. রাব্বী (১৮) এবং রাসেদ(২০) আশ্রয় নেন। এসময় শামীম ও তাঁর ১১ বছরের ছেলে সিয়াম নিখোঁজ থাকে।’
নিহত জেলে শামীম জোমাদ্দারের ছোট ভাই সাকিব জোমাদ্দার সোহেল জানান,‘দুর্ঘটনার পর গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে তাঁর ভাইয়ের মরদেহ পাওয়া গেছে। আজ শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে তাঁর ভাতিজার সিয়ামের মরদেহ খুঁেজ পায় তাঁরা। সিয়ামের মরদেহ বাড়িতে পৌঁছাতে ৫ থেকে ৬ ঘন্টা লাগবে। বাড়িতে পৌঁছানোর পর দাফনের প্রস্তুতি নেয়া হবে।’
উদ্ধারের আগে কুয়াকাটা নৌ-পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক বিকাশ চন্দ্র মন্ডল ও রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শিরাজুল ইসলামের বক্তব্য ছিল,‘ক্ষতিগ্রস্থদের কাছ থেকে নিখোঁজের বিষয়টি জেনে তাঁরা স্থানীয় কোস্টগার্ডসহ সংশ্লিষ্টদের অবহিত করেছেন।’
এ বিষয়টি জানতে বড়বাইশদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফরাদ হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকার কল দেয়া হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।









