বাউফল প্রতিনিধি: পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনে বিএনপি দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন বিএনপি দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য শহিদুল আলম তালুকদার। মনোনয়ন ঘোষণার পর ঢাকা থেকে লঞ্চে করে আজ মঙ্গলবার সংসদীয় এলাকায় এসেছেন শহিদুল আলম।
এ উপলক্ষে তাঁর সমর্থিত কয়েক হাজার কর্মী-সমর্থক তাঁকে শুভেচ্ছা জানানোর জন্য নুরাইনপুর লঞ্চঘাট এলাকায় অবস্থান করেন। বেলা সোয়া ১১ টার দিকে তিনি লঞ্চ থেকে নামেন। পরে ছাদ খোলা একটি গাড়িতে করে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে শোডাউন করে উপজেলা সদরের বাউফল পাবলিক মাঠে আসেন।
সেখানে শহিদুল আলম তালুকদার প্রধান অতিথির বক্তব্যে কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘এ আসনে জামায়াত ঘাঁটি করছে। জামায়াতকে প্রতিহত করতে তাঁকে লাগবে। এ কারণেই বিএনপি তাঁকে মনোনয়ন দিয়েছে।’
তিনি মনোনয়ন বঞ্চিত প্রার্থীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘তিনি সবাইকে আমন্ত্রন জানাবেন, সবাইকে নিয়ে বিএনপি করবেন।’
পরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি ও সুস্থতা কামনায় দোয়-মোনাজাতের মধ্য দিয়ে দুপুর সোয়া একটার দিকে অনুষ্ঠান শেষ হয়।
শহিদুল আলমের আগমন ও খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনা উপলক্ষে পাবলিক মাঠে নির্মিত মঞ্চে গতকাল সোমবার গভীর রাতে কে বা কারা আগুন লাগিয়ে দেয়। যদিও বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার আগেই স্থানীয় লোকজন নেভাতে সক্ষম হয়।
তবে শহিদুল আলমের শোডাউন ও দোয়া-মোনাজাত অনুষ্ঠানে উপজেলা, বাউফল পৌরসভা, ১৫টি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের কমিটির শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের দেখা যায়নি।
এ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহদপ্তর সম্পাদক মু. মুনির হোসেন ও নির্বাহী সদস্য শিল্পপতি একেএম ফারুক আহম্মেদ তালুকদার। তাঁরাও ছিলেন অনুপস্থিত।
শহিদুল আলম তালুকদারকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ায় ক্ষুব্ধ মুনির হোসেন ও ফারুক আহম্মেদের কর্মী-সমর্থকেরা। এ কারণে গত রোববার সন্ধ্যায় বাউফল উপজেলা বিএনপি জরুরি সভা করে শহিদুল আলমের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাখ্যান করে মনোনয়ন পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন। পরে শহিদুল আলমের মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে তিন দফায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা।
গত বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ৩৬টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেন। এই ৩৬ আসনের মধ্যে পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনে সাবেক সংসদ সদস্য শহিদুল আলম তালুকদারের নাম ঘোষণা করা হয়।
শহিদুল আলম জাতীয় পার্টি থেকে ১৯৯৬ সালে বিএনপিতে যোগ দেন। বিএনপির মনোনয়নে শহিদুল আলম ১৯৯৬ সালের সংসদ নির্বাচনে ২৪ ভোটে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর কাছে হেরে যান। বিএনপির মনোনয়নে তিনি ২০০১ সালে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালে বিএনপির মনোনয়ন পেলেও মামলা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে অংশ নিতে পারেননি শহিদুল আলম।









