দশমিনা প্রতিনিধি: দশমিনা উপজেলায় কিশোর গ্যাংয়ের তান্ডবে বিরোধী সম্পত্তি দখলের চেষ্টা ও একজন আহতের ঘটনা ঘটেছে।
শনিবার সকাল ১০ টার দিকে উপজেলার বেতাগী সানকিপুর ইউনিয়নের ০৮ নম্বর ওয়ার্ড বড়গোপালদী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বেতাগী সানকিপুর ইউনিয়নের বড়গোপালদী ইউনিয়নের বাসিন্দা মোঃ আলতাফ হোসেন দীর্ঘ ৩০ বছর কবলা দলিলমূলে জমিতে ঘর নির্মান করে বসবাস করে আসছে। উক্ত সম্পত্তি একই গ্রামের মোঃ হিরণ দাবী করে বিভিন্ন সময় মামলা-হামলা সহ নির্যাতন করে আসছে। এই সম্পত্তি নিয়ে আলতাফ হোসেনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করার পর উক্ত মামলা থেকে আলতাফ হোসেন অব্যহতি পান।
এরপর আজ শনিবার সকাল ১০ টায় বিদ্যুৎ লাইন ঠিক করার জন্য লোক আনলে হিরন জানতে পেয়ে তার ছেলে রাজনসহ অপরিচিত ১০-১২ জন কিশোর দেশীয় অস্রসহ আলতাফের ঘরে প্রবেশ করে মারধর সহ ঘরের মালামাল ভাংচুর, নগদ টাকা লুট ও ঘরের মালপত্র ফেলে দেয়। কিশোরদের তান্ডবের শব্দ ও আলতাফের ডাক চিকাৎকারের শব্দ শুনে এলাকার লোকজন আসলে তারা দ্রুত হুন্ডা যোগে পালিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী আলতাফ হোসেন জানান, আমি সকাল ১০ টায় লোক দিয়ে বিদ্যুতের মিটারের কাজ করাচ্ছিলাম। তখন হিরণের ছেলে রাজনের সাথে আরো ১০-১২ জন কিশোর দেশীয় অস্রশস্রে সজ্জিত হয়ে আমার বসত ঘরে প্রবেশ করে। আমাকে কোন কিছু বুজতে না দিয়ে রাজন ও অপরিচিত কয়েকজন কিশোর পলোপাথারী মারধর শুরু করে। ৩-৪ জন আমাকে মাটিতে শোয়াইয়া রাখে অন্যরা ঘরের আসবাবপত্র ভাংচুর করে। রাজন আমার ব্যবসার জন্য ব্যাগে রাখা ৩০ হাজার টাকা নিয়ে যায়। আমার ঘরের পশ্চিম ও দক্ষিণ পাশের টিনের বেরা কোপাইয়া ছুটাইয়া অন্যত্র ফেলে রাখে। রাজন আমাকে বলে আমরা যাহারা আসছি তোর বাপ লাগি আবার কাজ করলে এখানে পুতে দিবো বলে চলে যায়। আমি অসুস্থ হয়ে পরলে স্থানীয় লোক জন দশমিনা হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা করান। আমি দশমিনা থানার ওসিকে ফোনে জানিয়েছি। তিনি ব্যবস্থা নেয়ার আশ দেন।
প্রত্যক্ষদর্শী মামুন মৃধা জানান, আলতাফ আমাকে সকালে ফোন করে কাজ কারার জন্য ডাকে। আমি কাজ শুরু করার সাথে সাথে ১০-১২ জন অপরিচিত কিশোর দেশীয় অস্র ( বগি ও রান দা) নিয়ে ঘরে প্রবেশ করে আমাকে কাজ না কারার জন্য বলে। পরে আলতাফকে মারধর ও ঘরের আসবাবপত্র ভাংচুর ও ঘরের বেড়া কোপাইয়া ছুটাইয়া ফেলে। এলাকার লোকজন ছুটে আসলে ওরা মটরবাইকে পালিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী আলতাফের বোন রেনু বিবি জানান, আমার ভাইর নামে এই জমি দীর্ঘদিন এই জমিতে বসত ঘর নির্মান করে বসবাস করছে। হিরন এই জমি দাবি করে প্রায় সময় মামলা-হামালা দিয়ে নির্যাতন করে। এই জমি নিয়ে হিরন একাধিক মামলা করে কোন উপকার পায়নি। এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিরা একাধিক বার শালিসি করেন সেখানে জায়গা পায়নি। এখোন জোরকরে জমি দখল করার পায়তারা করে আসছে। হিরোনের ছেলে আজ সকালে ১০-১২ জন কিশোরকে নিয়ে আমার ভাইকে মারধর সহ ঘর ভাংচুর করে। এলাকার লোকজন না পরলে আমার ভাইকে মেরে ফেলত।
অভিযুক্ত হিরন জানান, ওখানে আমারও জমি আছে। কবলা মুলে মালিক আমি। জমি নিয়ে মামলা চলোমান। আমি বা আমার ছেলে কোন লোকজন এনে জামি দখল, আলতাফকে মারধর , ঘরের আসবাবপত্র বা ঘরের বেড়া বাংচুর করেনি। আলতাফের ঘর থেকে রাজন সহ ১০-১২ জন বেরিয়ে যেতে দেখার বিষয় যানতে চাইলে বলেন আমি এ বিষয় জানিন।
দশমিনা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মাদ আবদুল আলীম জানান, আলতাফ হোসেন নামের একজন মোবাইলে ঘটনার বিষয় জানিয়েছেন। ঘটনা স্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইননানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে









