পটুয়াখালী জেলা বিএনপির নির্বাচিত সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কুট্টি ও সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. মজিবুর রহমান টোটনকে লক্ষ্য করে পটুয়াখালী-১ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আলতাফ হোসেন চৌধুরীর বক্তব্যকে বিভ্রান্তিকর দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছে জেলা বিএনপি।
বুধবার (২৭ নভেম্বর) বিকালে জেলা বিএনপির কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ২৬ নভেম্বর বদরপুর ইউনিয়নের এক জনসভায় আলতাফ হোসেন চৌধুরী ‘চোরায় না শোনে ধর্মের কাহিনী’, ‘জেলা কমিটি বাদ দেন, ওটা ফ্রিজ হয়ে গেছে’—এমন মন্তব্য করে নির্বাচিত জেলা নেতৃত্বকে হেয় করেছেন। যা দলীয় শৃঙ্খলা, গঠনতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী।
জেলা বিএনপির নেতারা জানান, ‘মনোনয়ন ঘোষণার আগ থেকেই জেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা পটুয়াখালী সদর, দুমকি ও মির্জাগঞ্জে ধারাবাহিক নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে আসছেন। ধানের শীষের পক্ষে বড় বড় জনসভাও করেছেন তারা। অথচ মনোনয়ন পাওয়ার পর আলতাফ হোসেন চৌধুরী দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা না করেই নিজ বাসা থেকে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করছেন এবং পদবিহীন ও দীর্ঘদিন অনুপস্থিত কিছু বিতর্কিত ব্যক্তিকে সামনে এনে ত্যাগী নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা তৈরি করেছেন।’
সংবাদ সম্মেলনে জেলা বিএনপি দাবি করে, ‘মনোনয়ন পাওয়ার আগে আলতাফ হোসেন চৌধুরী- সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক বা জেলা কমিটির কারও সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ করেননি। বরং মনোনয়ন পাওয়ার পর সাংবাদিকদের নিয়ে আকস্মিকভাবে জেলা কার্যালয়ে এসে কোনো আলোচনা ছাড়াই ছবি তুলেই চলে যান।’
তারা অভিযোগ করেন, ‘তিনি (আলতাফ হোসেন চৌধুরী) বিভিন্ন সভা–সমাবেশে জেলা কমিটিকে হিমাগারে পাঠানো হয়েছে বলে মন্তব্য করে দলের নির্বাচিত কমিটিকে অবমাননা করেছেন। যা ত্যাগী নেতা–কর্মীদের মনে গভীর ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে।’
নেতৃত্ববৃন্দ জানায়, ‘জেলা বিএনপি কখনো বিভক্ত ছিল না, নেই এবং থাকবে না। ধানের শীষের বিজয়ের জন্য আমরা ঐক্যবদ্ধ ছিলাম, আছি এবং থাকব।’
সংবাদ সম্মেলন শেষে জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘ব্যক্তিগত ক্ষোভ বা ভুল তথ্য দিয়ে দলের ক্ষতি করার সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না। বিভ্রান্তিকর বক্তব্য আমরা প্রত্যাখ্যান করছি এবং ধানের শীষের বিজয়ের জন্য সর্বশক্তি নিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।’
এ সংবাদ সম্মেলনে জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।









