বরগুনা প্রতিনিধি: বরগুনার বামনা ও পাথরঘাটা উপজেলায় রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (আরডিএফ) বাস্তায়িত ‘গার্লস গেট ইকুয়্যাল ২.০ রিয়ালাইজিং রাইটস অ্যান্ড বিল্ডিং রেজিলিয়েন্স’ প্রকল্পের মাঠ পর্যায়ের অগ্রগতি পরিদর্শন করেছেন নরওয়ে দূতাবাস, ঘঙজঅউ (নরওয়ের উন্নয়ন সংস্থা) ও প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল নরওয়ের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা। শনিবার (২৩ নভেম্বর ২০২৫) নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হোকন আরাল্ড গুলব্রান্ডসেন এর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল প্রকল্প এলাকাসমূহ পরিদর্শন করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নরওয়ের উন্নয়ন সংস্থা ( NORAd-Gi) এর অর্থায়নে পাঁচ বছর মেয়াদি এই প্রল্পের লক্ষ্য ১০-২৪ বছর বয়সী কিশোরী ও তরুণীদের শিক্ষা, যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য অধিকার, নেতৃত্ব ও জীবন দক্ষতা, নিরাপত্তা, সহনশীলতা ও অর্থনৈতিক মতায়ন বৃদ্ধি করা। প্রল্পের টেকনিক্যাল পার্টনার প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ এবং মাঠ পর্যায়ে বাস্তায়ন করছে আরডিএফ।
একদিনের এই সফরে প্রতিনিধিরা প্রথমে বামনা উপজেলার কলাগাছিয়া গ্রামে ফাংশনাল লিটারেসি অ্যান্ড নিউমেরেসি (ঋখঘ) সেন্টার পরিদর্শন করেন। সেখানে তারা ঝরে পড়া ও স্কুলছুট শিশুদের শেখার অগ্রগতি, পুনঃভর্তি প্রক্রিয়া, পাঠদানের পরিবেশ, চ্যালেঞ্জ এবং কমিউনিটির অংশগ্রহণ বিষয়ে সরাসরি ধারণা নেন। কলাগাছিয়া ফাংশনাল লিটারেসি অ্যান্ড নিউমেরেসি (ঋখঘ) সেন্টার প্রতিষ্ঠা হয় চলতি বছরের ১১ সেপ্টেম্বর এবং ক্লাশ কার্যক্রম শুরু হয় ৩ অক্টোবর ২০২৫ থেকে। ১০-১৮ বছরের ২৫ জন শিক্ষার্থীদের নিয়ে দুই শিফটে কার্যক্রম পরিচালনাধীন রয়েছে।
এ সময় নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হোকন আরাল্ড গুলব্রান্ডসেন এর সফর সঙ্গী ছিলেন নরওয়ে দূতাবাসের প্রোগ্রাম অফিসার মিস শাহপার সেলিম ও মিস জোহোরা ফারজানা আহমেদ বিপাশা। প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল নরওয়ের সিনিয়র অ্যাডভাইজার অ্যালিসন ওয়েডওয়াল্ট, ঘঙজঅউ প্রতিনিধি লিন্ডা সুভাটনে, লিড- লোকালাইজেশন পাইলট, এলিজাবেথ মেসজারোস হোকেনওসেন, কেস ওয়ার্কার, ও প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের ডিরেক্টর প্রোগ্রাম মোহাম্মদ মঈন নওয়াজ চৌধুরীসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আরডিএফের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব এম গোলাম মোস্তফা ও প্রকল্প টিম সফরসঙ্গী ছিলেন।
প্রকল্পটির আওতায় বামনা ও পাথরঘাটায় মোট ১০,৩২২ জন কিশোর-কিশোরী, যুব এবং কমিউনিটি সদস্য শিক্ষা, ঝজঐজ, জীবন দক্ষতা, জলবায়ু সহনশীলতা ও জেন্ডার সমতা বিষয়ক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত রয়েছেন।
এদিকে বামনায় চলমান ‘গার্লস গেট ইকুয়্যাল ২.০’ প্রকল্প বিষয়ে অধিকাংশ জনগণের ধরনা নেই বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রকল্প বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ব্যক্ত করেছেন মিশ্র প্রতিক্রিয়া। বামনা উপজেলার সদর ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নং ওয়ার্ডের জনপ্রতিনিধ ও কলাগাছিয়া গ্রামের বাসিন্দা তৌহিদুল ইসলাম তুহিন বলেন, আমি কিছুই জানি না তবে লোক মুখে এ প্রকল্পের কথা শুনেছি। তবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সরাসরি সংপিৃক্ততা না হলে রাষ্ট্রের কল্যন্যে এসব প্রকল্পের যথাযথ উদ্দ্যেশ বাস্তবায়নে কতটা সফলতা আসবে এ বিষয়ে আমি সন্দীহান।
এ বিষয়ে বামনা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও বরগুনা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বলেন, নরওয়ে সরকারের উদ্যোগ প্রশংসনীয় তবে প্রকল্প বাস্তবায়নে স্থানীয় এনজিও আরডিএফ এর ভূমিক প্রশ্নবিদ্ধ। কারণ এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে স্থানীয় জন প্রতিনিধি, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তি বর্গ ও স্থানীয় সাংবাদিক প্রতিনিধিরা প্রকল্পের মিশণ-ভিশণ বিষয়ে অদৌ অবগত নয়।
এ বিষয়ে বামনা উপজেলা বিএনপি’র আহবায়ক ও সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার আবুল কালাম আজাদ রানা বলেন- আমরা নরওয়ে রাষ্ট্রদূতসহ সফর সঙ্গীদের স্বাগত জানাই। আমরা সবসময় এলাকার উন্নয়নে বিদেশী দাতাসংস্থা ও এনজিও প্রতিনিধিদের যথাযথ সম্মান ও সহযোগিতা করেছি এবং ভবিষ্যতেও সার্বিক সহযোগিতা করতে চাই। অথচ বামনায় কে বা কারা এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছেন তা আমাদের জানা নেই। বাস্তবায়নকারী এসব সংস্থাগুলো তাদের স্বার্থ সিদ্ধির জন্য আমাদেরকে এ বিষয়ে অবহিত করেনি বলে আমরা দুঃখ প্রকাশ করিছি।
এ বিষয়ে বাস্তবায়নকারী সংস্থা আরডিএফ এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এম গোলাম মোস্তফা বলেন, আমরা বরগুনা জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের প্রশাসনকে এ প্রকল্পের বিষয়ে অবহিত করেছি। সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গদেরকে অবশ্যই অফিসিয়ালি অবগত করা হবে। এছাড়াও তাদের নিয়েই প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করা হবে।









