মেজবাহউদ্দিন মাননু, কলাপাড়া: অন্তত চারটি দশক ধরে বাব-দাদার পেশায় যোগান দিচ্ছেন পরেশ চন্দ্র ও গোবিন্দ। নিজেদের চুলেও পাক ধরেছে। রাস্তার পাশের ফুটপাতেই কেটেছে তারও জীবনের অধিকাংশ সময়। জীবিকার চাকায় যোগান দিতে গিয়ে রোদে পুড়েছেন, আবার ভিজেছেন বৃষ্টিতে। ঝড়-বৃষ্টির দিনে দোকান চলতো না। বন্ধ থাকতো। দোকান বলতে গেলে একটি দুই হাত বাই দুই হাত একটি বাক্স।

তার মধ্যে পুরনো জুতা-সেন্ডেল সেলাই কিংবা জোড়াতালি দেয়ার মধ্য দিয়ে উপার্জিত টাকায় এদের মতো ১০টি পরিবারের জীবিকার চাকা চলে আসছিল। কিন্তু হাটাচলার রাস্তার ফুটপাতের জায়গা থেকে এঁদের অপসারণ করে স্থায়ী একটি জায়গায় দোকান করার জন্য বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাব-দাদার পরে নিজেদের পেশায় একটি নিশ্চিত জায়গা পেয়ে এই ১০টি মুচি পরিবারের সদস্যরা যারপরনাই খুশি হয়েছেন।
আর এই হতদরিদ্র পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের জন্য একটি টিনশেড ঘরসহ জায়গা বুঝিয়ে দিলেন কলাপাড়া পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাউছার হামিদ। তিনি মঙ্গলবার রাতে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘরসহ নির্দিষ্ট মাপের জায়গাটি বুঝিয়ে দেওয়ার পর থেকে প্রশংসায় ভাসছেন কাউছার হামিদ। পটুয়াখালীর কলাপাড়া পৌরশহরের নতুন বাজারে এই দরিদ্র ১০ পরিবারের উপার্জনোক্ষম মানুষটিকে স্থায়ী এক টুকরো করে জায়গা বুঝিয়ে দিলেন। পরিবারগুলোর আয় করা মানুষগুলো স্থায়ী অবলম্বন পেয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন। শুধু এই ১০ পরিবার নয়- রাস্তায় বসে একই স্থানে পুরনো-ছেড়া কিংবা ভাঙা ছাতা মেরামতকারী চারজন হতদরিদ্র কর্মজীবী ও একজন কামার ও দুইজন ক্ষুদে দোকানি চা বিক্রেতাকে ওই টিনশেড ঘরের পাশে পুনর্বাসন করেছেন।
এর আগে গত ৩ নভেম্বর ফুটপাত দখলমুক্ত অভিযানে মুচি ও ছাতা মেরামতকারীদের সরিয়ে দেওয়া হয়। পৌর প্রশাসক তখন তাদের বিকল্প স্থানের আশ্বাস দেন। সেই প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে পৌর শহরের নতুন বাজার এলাকার মহিলা মার্কেট ঘেষা পাকা ফ্লোর ও টিনসেড ছাউনিযুক্ত কর্মস্থলের স্থায়ী জায়গা বুঝিয়ে দেন। পৌরসভার অর্থায়নে এসব করা হয়েছে বলে জানালেন কাউছার হামিদ।
পরেশ ও গোবিন্দ জানান, আমাদের এভাবে স্থায়ী একটা ব্যবস্থা করবেন এটি ভাবতে পারিনি। অথচ চল্লিশ-পঞ্চাশ বছর ধরে রাস্তার পাশে কষ্ট করেছেন। কেউ এমনটি করে ভাবেননি। পুনর্বাসিত এই হতদরিদ্র মানুষগুলো যেন স্বস্তিতে এখন থেকে কাজ করছেন। তাঁদের মনের অনিশ্চিয়তার শঙ্কা কেটে গেছে। থাকবে না উচ্ছেদ শঙ্কা।
কলাপাড়া পৌরশহর ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, পৌর প্রশাসক জায়গা নির্ধারণ করে দেওয়ার পর আমরা পৌরশহর ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির পক্ষ থেকে মুচি ও ছাতা ব্যবসায়ীদের মধ্যে জায়গাগুলো সমবন্টন করে দিয়েছি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক কাউছার হামিদ জানান, পৌরসভার পক্ষ থেকে তাদের বসার স্থায়ী ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাদের কোনো ভাড়া দিতে হবে না, এবং ভবিষ্যতে এখান থেকে কাউকে উচ্ছেদও করা হবে না। কর্মজীবী এই মানুষগুলো ছাড়াও সচেতন মহল পৌরপ্রশাসক ও ইউএনও কাউছার হামিদের এমন পদক্ষেপের প্রশংসা করেন।









