নতুন ৬টি আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপনের মাধ্যমে স্থানভিত্তিক ধানের জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং বিদ্যমান গবেষণাগার উন্নয়ন (এলএসটিডি) প্রকল্প- এর অর্থায়নে ‘প্রায়োগিক পরীক্ষণ ও মূল্যায়নের জন্য’ পটুয়াখালীতে প্রযুক্তি গ্রামে কৃষক পর্যায়ে উচ্চ ফলনশীল বীজ ধান বিতরণ করা হয়েছে।

বুধবার (১৯ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় সদর উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের পশুরিবুনিয়া এলাকায় ‘বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট’ পটুয়াখালী (ব্রি) স্যাটেলাইট স্টেশন’র উদ্যোগে এ বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
এসময়ে প্রযুক্তি গ্রামে বাছাইকৃত ৩৫ জন কৃষকের মাঝে ব্রি উদ্ভাবিত স্থানভিত্তিক আধুনিক ধানের জাতের প্রায়োগিক পরীক্ষণ ও মূল্যায়ন এবং জনপ্রিয়করণের উদ্দেশ্যে বীজধান প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এলএসটিডি প্রকল্পের (ব্রি স্যাটেলাইট স্টেশন, পটুয়াখালী) বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা রোবায়েত নাজমুন ইভা এবং পটুয়াখালী সদর উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আকলিমা আখতার লিমা।
এসময় এলএসটিডি প্রকল্পের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা রোবায়েত নাজমুন ইভা কৃষকদের উদ্দেশ্যে ব্রি উদ্ভাবিত উচ্চফলনশীল আধুনিক ধান থেকে সবল চারা উৎপাদনের নিয়ম, আদর্শ বীজতলা তৈরি, পরিচর্যা ও সঠিক পদ্ধতিতে চারা রোপণসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কৃষিপ্রযুক্তি বিষয়ে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। পাশাপাশি বিতরণকৃত জাতগুলোর বৈশিষ্ট্য, প্রয়োজনীয়তা ও ফলন ক্ষমতা সম্পর্কে আলোকপাত করেন।
তিনি বলেন, ব্রি ধান৭৪ এ প্রতি কেজিতে রয়েছে ২৪.২ মিলিগ্রাম জিংক, যা মানবদেহের জিংক ঘাটতি পূরণে কার্যকর। উপকূলীয় এলাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ লবণাক্ততা সহনশীল জাত ব্রি ধান৬৭ ও ব্রি ধান৯৯ বিতরণ করা হয়েছে। ব্রি ধান১০৫, যা লো জিআই বা ডায়াবেটিক রাইস নামে পরিচিত, এর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স মাত্র ৫৫, ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য উপযোগী। কৃষকদের মাঝে আরও বিতরণ করা হয়েছে ব্রি ধান১০৮, ব্লাস্ট রোগ প্রতিরোধী ব্রি ধান১১৪ এবং ব্রি হাইব্রিড ধান৮।
পটুয়াখালী (ব্রি) স্যাটেলাইট স্টেশন’র এই বিজ্ঞানী বলেন, কৃষকদের হাতে আধুনিক, উচ্চফলনশীল ও জলবায়ু সহনশীল জাত পৌঁছে দিতে প্রযুক্তি গ্রাম দীর্ঘমেয়াদে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে কৃষকের মাঠে নতুন জাতের ফলন, অভিযোজন ক্ষমতা ও কৃষিতাত্ত্বিক সুবিধা আরও বাস্তবভিত্তিকভাবে মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে।









