পটুয়াখালীতে এক ইউপি সদস্যের বাড়িতে টিউবওয়েল বসাতে গিয়ে মেলে গ্যাসের উপস্থিতি। যেখান থেকে দীর্ঘ ৬ মাস ধরে অনবরত উঠছে প্রাকৃতিক গ্যাস। আর সেই গ্যাসেই রান্না করছেন ওই ইউপি সদস্যের পরিবার। পটুয়াখালী সদর উপজেলার বড়বিঘাই ইউনিয়নের তিতকাটা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাটির নিচ থেকে অনবরত উঠছে গ্যাস। বর্তমানে সেখানে পাইপ লাইন করে রান্না করছেন ওই পরিবার। অতিথি আসলে সেই গ্যাসেই রান্না করে করা হচ্ছে আপ্যায়ন।
জানা যায়, স্থানীয় ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান গভীর নলকূপ স্থাপনের জন্য মাটির নিচে পাইপ বসালে সেখান থেকে গ্যাস উঠে আসে। ফলে সেখান থেকে অন্যত্র তারা টিউবয়েল স্থানান্তর করেন। শুরুতে তারা এটাকে স্বাভাবিক ভাবলেও পরবর্তীতে দেখতে পান দীর্ঘদিন পরেও সেখান থেকে গ্যাস ওঠা থামেনি।
ইউপি সদস্যের স্ত্রী ফরিদা বেগম বলেন, ‘‘গ্যাস ওঠার প্রায় ৫ মাস পরে আমরা এখানে প্রায় দুই ফুটের একটি লোহার পাইপ লাগিয়েছি। আশপাশ থেকে ছুটে আসা মানুষকে এখানে চা করে খাওয়াই, মাঝে মধ্যে ভাতও রান্না করি। এটা একটা আশ্চর্যজনক বিষয়, তবে আমাদের জন্য আতঙ্কেরও। কখন কী হয় বলতে পারিনা।’’
স্থানীয় বাসিন্দা নয়ন আকন বলেন, ‘‘আমরা শুনতে পাই দেশের বিভিন্ন স্থানেই এভাবে গ্যাস ওঠে। তবে এটি একটু বিস্ময়কর। অন্যান্য জায়গায় ১৫ থেকে ১ মাস পরে ওই গ্যাস ওঠা থেমে গেলেও এখানে ৬ মাসেও থামেনি গ্যাসের চাপ। হয়তোবা এখানে গ্যাসের খনিও থাকতে পারে।
তিনি আরো বলেন, ‘‘আমরা একটু ভয়েও থাকি, কারন বাড়িতে ছোট বাচ্চারা আছে। তারা যদি কখনও ভুলবশত গ্যাসের কাছে আগুন নিয়ে খেলা করতে আসে, তখন হয়তো দূর্ঘটনাও ঘটতে পারে।’’
ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, ‘‘দীর্ঘদিন ধরেই এখানে গ্যাস উঠছে, এটা সত্যিই অবিশ্বাস্য। আমরা ঘটনাটি চেয়ারম্যান সাহেবের মাধ্যমে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবগত করেছি।’’
পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী গণদাবীকে বলেন, ‘‘বিষয়টি আমার জানা ছিলো না, মাত্রই আপনার থেকে জানলাম। আমি খোঁজ খবর নিয়ে দেখবো কি ব্যবস্থা নেওয়া যায়। তবে, দ্রুতই একটা ব্যবস্থা নিবো।’’









