পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি ড. কাজী রফিকুল ইসলাম বলেছেন, গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভোগান্তি অনেকাংশেই কমে এসেছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থীদের একই পরীক্ষার মাধ্যমে ভর্তির সুযোগ করে দেওয়াই ছিল এ পদ্ধতির মূল উদ্দেশ্য। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সুবিধার কথা বিবেচনা করেই কৃষি-গুচ্ছের এই যাত্রা শুরু হয়েছিল, যা আজ সফলতার ধারাবাহিকতায় পরিণত হয়েছে।
প্রতিবছরের মতো এ বছরও আমরা গুচ্ছ পদ্ধতির মাধ্যমে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করব। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় গাজীপুরের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার নেতৃত্ব দেবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্যবৃন্দ এবং টেকনিক্যাল কমিটির সদস্যরা সম্মিলিতভাবে এ কার্যক্রমকে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে কাজ করবেন। আমরা গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. লুৎফুল হাসান স্যারের নেতৃত্বে সমন্বিতভাবে কাজ করছি, যাতে ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হয়। গুচ্ছ পদ্ধতির মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মেধাবী শিক্ষার্থীরাও সমানভাবে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে।
এতে শুধু মেধার সঠিক মূল্যায়নই নিশ্চিত হচ্ছে না, বরং উচ্চশিক্ষার মান ও সুযোগের ক্ষেত্রেও একটি জাতীয় ভারসাম্য সৃষ্টি হয়েছে। এই প্রক্রিয়াকে আরও আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও শিক্ষার্থীবান্ধব করে তুলতে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছি। ভর্তি কার্যক্রম যেন সম্পূর্ণ সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হয়, সে লক্ষ্যে সকল শিক্ষক, কর্মকর্তা ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করছি। কৃষি শিক্ষার এই সমন্বিত প্রচেষ্টা আমাদের জাতীয় উন্নয়নের ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করবে।
২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে কৃষি গুচ্ছভুক্ত নয়টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি কার্যক্রম আগের ধারাবাহিকতায় সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত উপাচার্য পরিষদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন পবিপ্রবি উপাচার্য কার্যালয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, আগের বছরের মতো এ বছরও একই পদ্ধতিতে গুচ্ছভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এ. কে. ফজলুল হক ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যবৃন্দ। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের প্রতিনিধি বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
পবিপ্রবি উপাচার্য কার্যালয় সূত্রে জানানো হয়, চলতি শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষার নেতৃত্বে থাকবে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। এর আগে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
সভা শেষে উপাচার্যবৃন্দ একমত হন, ভবিষ্যতে কৃষি শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে দেশের খাদ্যনিরাপত্তা ও টেকসই উন্নয়নে কৃষি গুচ্ছ পদ্ধতির ভূমিকা আরও জোরদার করা হবে। ভর্তি পরীক্ষার সম্ভাব্য তারিখ, আবেদন প্রক্রিয়া ও আসনসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য আগামী ১৪ নভেম্বর বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকে নির্ধারণ করা হবে বলে সভায় জানানো হয়। পরবর্তীতে এসব তথ্য গুচ্ছ ভর্তি কমিটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।









