শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করা, বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং ঝরে পড়া রোধের লক্ষ্যে বরিশাল বিভাগে পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার কালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চালু হয়েছে মিড-ডে মিল (দুপুরের খাবার) পাইলটিং কার্যক্রম। এর মধ্য দিয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বরিশাল বিভাগের মধ্যে প্রথমবারের মতো বিদ্যালয়টিতে এ কার্যক্রমের সূচনা হলো।
রোববার (১ নভেম্বর) বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পটুয়াখালীর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মাসুদ করিম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. গোলাম সগীর, সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রিপন কুমার দাস, মো. মজনু মোল্লা ও মো. ওয়ালীউল ইসলাম, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. সোলায়মান, প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিন আরাফাত রনি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোসা. মনিরা সুলতানা। এ সময় বিদ্যালয়ের শিক্ষক, অভিভাবক, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
মিড-ডে মিল কার্যক্রমের আওতায় স্কুলের ক্যান্টিন থেকে প্রতিদিন কুপনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। খাবারের তালিকায় রয়েছে বনরুটি, সিদ্ধ ডিম, কলা, খেজুর, কিসমিস, চিনাবাদাম, ড্রাই কেক ও ইউএইচটি (UHT) প্যাকেটজাত তরল দুধ। প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য ডিম ও কলা বাধ্যতামূলক রাখা হয়েছে। পাশাপাশি বাকি খাবার থেকে নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী খাবার সংগ্রহ করতে পারবে তারা। এ জন্য প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে ৩৫ টাকা সমমূল্যের কুপন দেওয়া হবে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোসা. মনিরা সুলতানা বলেন, বিদ্যালয়ে বর্তমানে ২১২ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। প্রতিদিনের নির্ধারিত তালিকা অনুযায়ী শিক্ষার্থীরা ডিম ও কলার পাশাপাশি কুপনের মাধ্যমে পছন্দের খাবার সংগ্রহ করতে পারবে। এ উদ্যোগের ফলে শিক্ষার্থীদের পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হারও বাড়বে বলে আশা করছি।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. গোলাম সগীর বলেন, বরিশাল বিভাগের মধ্যে গলাচিপার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাইলটিং (পরীক্ষামূলক) কার্যক্রম হিসেবে মিড-ডে মিল চালু করা হয়েছে। এ কার্যক্রমের আওতায় বিদ্যালয়ে একটি ক্যান্টিন থাকবে শিক্ষার্থীরা সেখান থেকে সংগ্রহ করবে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে খাবার সরবরাহ করা হবে এবং শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত কুপন ব্যবহার করে সেখান থেকে খাবার সংগ্রহ করতে পারবে। নির্ধারিত খাদ্যতালিকা অনুযায়ী ডিম ও কলার পাশাপাশি বিভিন্ন পুষ্টিকর খাবারও রাখা হবে।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, এ উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতি, পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি এবং ঝরে পড়ার হার কমাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।








