বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীন এইচএসসি পরীক্ষায় ফলাফল বিপর্যয় ঘটেছে। এ বছর বোর্ডে পাসের হার ৪৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৫৭ হাজার ৯১২ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে অকৃতকার্য হয়েছে ৩১ হাজার ৯১২ জন। এছাড়া বোর্ডের অধীন ১১টি কলেজ থেকে অংশ নেওয়া ৩৭ জন শিক্ষার্থীর কেউই পাস করতে পারেনি।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, এ বছর বরিশাল বোর্ডের ৩৫০টি কলেজ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেয় ৫৭ হাজার ৯১২ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে পাস করেছে ২৫ হাজার ৯৭০ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯৫০ জন। গত বছর বোর্ডে পাসের হার ছিল ৬২ দশমিক ৫৭ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১ হাজার ৬৭৫ জন।
বিভাগভিত্তিক ফলাফলে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ১১ হাজার ৯৩৩ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ৬ হাজার ৭৭৫ জন। এ বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৩৫ জন। মানবিক বিভাগে ৪০ হাজার ১৭৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ১৬ হাজার ৯৮৩ জন। এ বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৮১ জন। অন্যদিকে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৫ হাজার ৪৯১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ২ হাজার ২১২ জন। এ বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫৪ জন।
জেলাভিত্তিক ফলাফলে পাসের হারে এগিয়ে রয়েছে পিরোজপুর। এ জেলার ৪৭টি কলেজ থেকে ৬ হাজার ৭৮২ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ৩ হাজার ৪৯৬ জন। বরিশাল জেলার ১০৭টি কলেজ থেকে ২০ হাজার ৯২৯ জন অংশ নিয়ে পাস করেছে ১০ হাজার ৪৫৩ জন। বরগুনার ৩৬টি কলেজ থেকে ৫ হাজার ৭৭৫ জনের মধ্যে পাস করেছে ২ হাজার ৫৭৯ জন।
ভোলা জেলার ৫৯টি কলেজ থেকে ৯ হাজার ৫৩৯ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ৩ হাজার ৭৭২ জন। পটুয়াখালীর ৭০টি কলেজ থেকে ১০ হাজার ৪৩০ জনের মধ্যে পাস করেছে ৪ হাজার ১৭ জন। অন্যদিকে ঝালকাঠির ৩১টি কলেজ থেকে ৪ হাজার ৪৫৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ১ হাজার ৬৫৩ জন।
এ বছর বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের অধীন ১১টি কলেজ থেকে ৩৭ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিলেও কেউ পাস করতে পারেনি। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে বরগুনার কদভানু মেমোরিয়াল মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজ, ভোলার চরমানিকা জালাল আহমেদ কলেজ, রামাগঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও মিদুয়া কলেজ, পটুয়াখালীর বিপিসি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মজিদবাড়িয়া কলেজ ও আউলিয়াপুর সাবিনা আক্তার স্কুল অ্যান্ড কলেজ, পিরোজপুরের দীঘিরজান স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও কদমতলা স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঝালকাঠির অ্যাডভোকেট এইচআরকে ফাউন্ডেশন কৃষি প্রযুক্তি কলেজ এবং বরগুনার হোগলাপাশা কলেজ।
অন্যদিকে, বরিশাল ক্যাডেট কলেজের ফলাফল ছিল শতভাগ সফল। প্রতিষ্ঠানটির বিজ্ঞান বিভাগের ৪১ জন এবং মানবিক বিভাগের ৫ জনসহ মোট ৪৬ জন পরীক্ষার্থীই জিপিএ-৫ পেয়েছে। এ সাফল্যে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন কলেজের অধ্যক্ষ এটিএম মোয়াজ্জেম হোসেন।
ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে মানসম্মত শ্রেণিকক্ষের পাঠদানের অভাব, শিক্ষক ও অভিভাবকদের অসচেতনতাকে দায়ী করেছেন বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক শরীফ মোর্শেদ রেজা। তিনি বলেন, শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত পাঠদান এবং বাসায় পড়াশোনার প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া যাবে না।
তিনি আরও জানান, অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ ইংরেজি বিষয়ে ফেল করেছে। এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে পারলে সামগ্রিক ফলাফল আরও ভালো করা সম্ভব হতো। ফলাফল বিপর্যয় থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামী দিনে ভালো ফলাফলের জন্য শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।









