পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার প্রধান দুটি নদী তেঁতুলিয়া ও বুড়াগৌরাঙ্গে দিন দিন কমে যাচ্ছে সুস্বাদু দেশি কোরাল মাছ। একসময় জেলেদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ধরা পড়লেও বর্তমানে নদীতে মাছের আকাল দেখা দিয়েছে। দিনরাত নদীতে জাল ফেলে মাছ শিকার করেও প্রত্যাশিত মাছ পাচ্ছেন না জেলেরা। সামান্য মিশ্র মাছ নিয়ে হতাশ হয়ে তীরে ফিরতে হচ্ছে তাঁদের। সেই মিশ্র মাছের মধ্যেও কখনো দু-একটি ছোট কোরাল পাওয়া যায়।
উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের হাট-বাজারে নদীর দেশি প্রজাতির সুস্বাদু মাছের সরবরাহ কমে যাচ্ছে। স্থানীয়দের মতে, তেঁতুলিয়া ও বুড়াগৌরাঙ্গ নদীতে নির্বিচারে ছোট-বড় মাছ শিকার, অবৈধ জালের ব্যবহার এবং প্রজনন মৌসুমে ডিমওয়ালা মাছ ও পোনা নিধনের কারণে কোরালসহ বিভিন্ন দেশি প্রজাতির মাছের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেয়েছে। বর্ষা মৌসুমে ডিম ছাড়ার আগেই মাছ জালে আটকা পড়ায় ব্যাহত হচ্ছে মাছের বংশবিস্তার।
অসাধু জেলেদের অবাধে মাছ শিকারের কারণে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে হারিয়ে যাচ্ছে দেশি প্রজাতির মাছ। মাছের প্রজনন ও পোনা মাছের বৃদ্ধির সময়েও নির্বিচারে ছোট-বড় মাছ ধরা অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি মাছের বিচরণক্ষেত্র ধ্বংস এবং মৎস্য আইন যথাযথভাবে প্রয়োগ না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।
একসময় মাছের প্রাচুর্যের জন্য পরিচিত তেঁতুলিয়া ও বুড়াগৌরাঙ্গ নদী এখন প্রায় মাছশূন্য হয়ে পড়ছে। নদীর সুস্বাদু কোরাল মাছ পাওয়া বর্তমানে অনেকটা ভাগ্যের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে নদীর ঐতিহ্যবাহী কোরাল মাছ একসময় বিলুপ্তির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
নদীর মৎস্যসম্পদ রক্ষায় অবৈধ জালের ব্যবহার বন্ধ, প্রজনন মৌসুমে মাছ শিকার নিয়ন্ত্রণ এবং মৎস্য আইন কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।









