পটুয়াখালীর বাউফলে দীর্ঘদিন মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার কারণে চরম দুর্ভোগে দিন কাটিয়েছেন নদীনির্ভর জেলেরা। সংসারের একমাত্র উপার্জনের পথ বন্ধ থাকায় অনেক জেলেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে অভাব-অনটনের মধ্যে দিন পার করতে হয়েছে। তবে নিষেধাজ্ঞার সময় শেষ হওয়ায় আবারও নদীতে মাছ ধরতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন জেলেরা। এতে তাঁদের মাঝে ফিরে এসেছে স্বস্তি ও আশার আলো।
গত ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর রাত ১২টা পর্যন্ত মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় বাউফল উপজেলার নদ-নদীতে মাছ শিকার বন্ধ ছিল। ফলে প্রতিদিন নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করা জেলেরা পড়েন চরম আর্থিক সংকটে। নিয়মিত আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক পরিবারকে দৈনন্দিন খাবার, সন্তানদের পড়াশোনার খরচ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনার ক্ষেত্রে হিমশিম খেতে হয়েছে।
নদীতে মাছ ধরেই যেসব পরিবারের সংসার চলে, তাঁদের কাছে নিষেধাজ্ঞার এই সময়টি ছিল অত্যন্ত কষ্টের। মাছ ধরতে না পারায় একদিকে যেমন আয়ের পথ বন্ধ ছিল, অন্যদিকে সংসারের খরচ মেটাতে গিয়ে অনেককে ধারদেনা করতে হয়েছে। কেউ কেউ পরিচিতজনদের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে কিংবা সঞ্চয় ভেঙে কোনোমতে দিন পার করেছেন।
তবে অপেক্ষার পালা শেষ হতে চলেছে। ২৯ অক্টোবর রাত ১২টার পর থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ায় আবারও নদীতে মাছ ধরতে পারবেন জেলেরা। দীর্ঘদিন পর নদীতে ফিরে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহের সুযোগ তৈরি হওয়ায় তাঁদের মুখে ফুটেছে হাসি। নৌকা, জালসহ মাছ ধরার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রস্তুত করছেন অনেক জেলে। নতুন করে মাছ ধরার মাধ্যমে সংসারের অভাব কিছুটা হলেও দূর হবে—এমন প্রত্যাশা তাঁদের।
জেলেদের আশা, নদীতে পর্যাপ্ত মাছ পাওয়া গেলে কয়েক দিনের মধ্যেই তাঁদের আর্থিক সংকট কিছুটা কমে আসবে। পরিবারের সদস্যদের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার পাশাপাশি ধারদেনা পরিশোধ এবং সংসারের অন্যান্য খরচ মেটানোর সুযোগ পাবেন তাঁরা।
দীর্ঘদিনের কষ্ট ও অনিশ্চয়তা পেছনে ফেলে আবারও নদীতে ফেরার অপেক্ষায় থাকা জেলেদের কাছে নিষেধাজ্ঞা শেষে এই সময়টি যেন নতুন করে বেঁচে থাকার স্বপ্ন। নদীর বুকে জাল ফেলে মাছ ধরার মধ্য দিয়েই তাঁরা ফিরিয়ে আনতে চান সংসারের স্বচ্ছলতা।
তবে জেলেদের প্রত্যাশা, নদীতে পর্যাপ্ত মাছ পাওয়ার পাশাপাশি মাছের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হলে তাঁদের পরিশ্রমের যথাযথ মূল্য মিলবে। একই সঙ্গে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ও নদীতে মাছ ধরার ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে জেলেদের জীবন-জীবিকা সুরক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতাও কামনা করেছেন তাঁরা।
সব মিলিয়ে, নিষেধাজ্ঞা শেষে বাউফলের নদ-নদীতে আবারও মাছ ধরার প্রস্তুতি জেলেদের অভাবের সংসারে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। এখন নদীতে কাঙ্ক্ষিত মাছ পাওয়া এবং সেই মাছ বিক্রি করে ন্যায্য দাম পাওয়ার ওপর নির্ভর করছে তাঁদের আগামী দিনের স্বস্তি ও স্বচ্ছলতার অনেকটাই।









