কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা, ডিজিটাল আসক্তি প্রতিরোধ ও মাদকের নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তুলতে পটুয়াখালী সদর উপজেলার ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আয়োজিত ধারাবাহিক সেমিনার শেষ হয়েছে। পটুয়াখালী সদর উপজেলা স্বাস্থ্য অফিসের আয়োজন এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘ধূমকেতু ইয়ুথ ফাউন্ডেশন’ (ডিওয়াইএফ)-এর সহায়তায় এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
বৃহস্পতিবার ফজলুল করিম মোল্লা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত সেমিনারের মধ্য দিয়ে এই ১০টি স্কুলের বিশেষ সচেতনতামূলক কর্মসূচির সফল সমাপ্তি ঘটে।
উপজেলা স্বাস্থ্য অফিস সূত্রে জানা যায়, প্রথম পর্যায়ে পটুয়াখালী পৌরসভার আওতাধীন পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ সেমিনার আয়োজন করা হয়। সেগুলো হলো পটুয়াখালী সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়, পটুয়াখালী কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ, পটুয়াখালী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় (গার্লস স্কুল), শের-ই-বাংলা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং ইন্টারন্যাশনাল পিস স্কুল অ্যান্ড কলেজ।
পৌর এলাকার পর পৌরসভার বাইরের বিভিন্ন ইউনিয়ন পর্যায়ের আরও পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হয়। ইউনিয়ন পর্যায়ের বিদ্যালয়গুলো হলো লাউকাঠী শহীদ স্মৃতি বিদ্যানিকেতন, হেতালিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ডিবুয়াপুর মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ভায়লা মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং ফজলুল করিম মোল্লা মাধ্যমিক বিদ্যালয়।
কর্মসূচির রূপকার পটুয়াখালী সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (UHFPO) ডা. এম এম নাহিদ আল রাকিব বলেন, “কৈশোরকালীন মানসিক স্বাস্থ্যকে আমাদের সমাজে এখনো এক ধরনের সামাজিক সংকোচ বা ট্যাবুর চোখে দেখা হয়। শিক্ষার্থীরা ডিজিটাল আসক্তি, পড়াশোনার চাপ ও বিষণ্নতার মুখোমুখি হলেও লজ্জায় কারো কাছে তা প্রকাশ করতে পারে না। আমাদের লক্ষ্য ছিল সরকারি সেবার গতানুগতিক গণ্ডি পেরিয়ে সরাসরি শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছানো, যাতে তারা নিজেদের মনের কথা নির্দ্বিধায় বলতে পারে।”
প্রতিটি সেমিনারে কৈশোরের মানসিক পরিবর্তন, মানসিকভাবে সুদৃঢ় থাকার উপায়, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইমের নেতিবাচক দিক এবং মাদক থেকে দূরে থাকার বিষয়ে চিকিৎসকদের পরামর্শমূলক বক্তব্য ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
ধূমকেতু ইয়ুথ ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধিরা জানান, শহর ও ইউনিয়নের প্রান্তিক শিক্ষার্থীদের মাঝে মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা পৌঁছে দিতে উপজেলা স্বাস্থ্য অফিসের সঙ্গে সমন্বয় করে তাদের দল মাঠপর্যায়ে কাজ করেছে।
আয়োজকদের আশা, ১০টি বিদ্যালয়ের হাজারো শিক্ষার্থীর মাঝে যে সচেতনতার সূচনা হলো, তা পটুয়াখালীর তরুণ সমাজকে মাদকমুক্ত ও মানসিকভাবে সুদৃঢ় ভবিষ্যৎ গড়তে অনুপ্রেরণা জোগাবে।








