আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় নারী ফুটবল প্রতিযোগিতা–২০২৬-এর ফাইনালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলোয়াড় ও সমর্থকদের বিরুদ্ধে হামলা ও অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) নারী ফুটবল দল ম্যাচ বর্জন করায় অসমাপ্ত থেকে যায় শিরোপা নির্ধারণী খেলা। এর আগে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দলে অনিবন্ধিত খেলোয়াড় অংশ নেওয়ার অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) দলও প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়িয়েছিল বলে জানা গেছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) ফাইনাল চলাকালে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিবরণ দেন যবিপ্রবির বীর প্রতীক তারামন বিবি হলের প্রভোস্ট ড. ফারহানা ইয়াসমিন। খেলোয়াড়দের সঙ্গে উপস্থিত থাকা এই কর্মকর্তা জানান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দলে অ-শিক্ষার্থী খেলোয়াড় অংশ নেওয়ার অভিযোগ নিয়ে প্রতিযোগিতার শুরু থেকেই বিতর্ক চলছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এ অভিযোগে ম্যাচ বর্জন করলেও আয়োজক কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তার আশ্বাসে ফাইনালে অংশ নেয় যবিপ্রবি।
ড. ফারহানা ইয়াসমিনের অভিযোগ, খেলা শুরুর পর থেকেই যবিপ্রবির খেলোয়াড়দের সঙ্গে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়েরা অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং শারীরিকভাবে আঘাত করেন। একপর্যায়ে যবিপ্রবির এক খেলোয়াড় বিষয়টি রেফারিকে জানালে প্রতিপক্ষের একজনকে লাল কার্ড দেখানো হয়। তবে পরে প্রতিবাদের মুখে সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হয় বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও জানান, যবিপ্রবির একটি আক্রমণের সময় গোলরক্ষকের সঙ্গে এক খেলোয়াড়ের ধাক্কা লাগাকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়েরা যবিপ্রবির এক খেলোয়াড়ের গলা চেপে ধরেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এরপর মাঠের বাইরে থাকা সমর্থক ও বহিরাগতদের একটি অংশ গাছের ডাল নিয়ে মাঠে প্রবেশ করে যবিপ্রবির খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের ওপর হামলা চালায় বলেও দাবি করেন এই প্রভোস্ট।
ঘটনার পর যবিপ্রবির খেলোয়াড় ও কর্মকর্তারা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন এবং নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে থাকেন বলে জানান ড. ফারহানা ইয়াসমিন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ম্যাচের মাত্র কয়েক মিনিট বাকি থাকতে আয়োজক কমিটি খেলা পুনরায় শুরুর প্রস্তাব দেয়। তবে খেলোয়াড়দের শারীরিক ও মানসিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সেই প্রস্তাবে রাজি হয়নি যবিপ্রবি দল।
পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে ড. ফারহানা ইয়াসমিন বলেন, খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা ও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও ট্রেজারারের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাঁদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা দিয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার ভিডিও প্রমাণ টুর্নামেন্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিয়ে ন্যায়বিচার দাবি করা হয়েছে।
এদিকে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে অংশ নেওয়া কয়েকজন খেলোয়াড়ের শিক্ষার্থী পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় প্রতিযোগিতাজুড়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তবে অনিবন্ধিত খেলোয়াড় অংশগ্রহণ ও হামলার অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এবং আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফলাফল জানা যায়নি।
ফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে এমন ঘটনার অভিযোগ আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এখন অভিযোগগুলোর তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং ফাইনালের আনুষ্ঠানিক পরিণতি সম্পর্কে আয়োজক কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্টরা।









