আমতলী প্রতিনিধি: মা ইলিশ রক্ষায় অবরোধ চলাকালীন সময়ে চাল না পেয়ে বরগুনার আমতলী উপজেলার চাওড়া ইউনিয়নের অর্ধ শতাধিক জেলে উপজেলা পরিষদের সামনে বিক্ষোভ করেছে।
সোমবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে তারা বিক্ষোভ করেন। বিক্ষোভ শেষে তারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।
ইউএনও অভিযোগটি আমলে নিয়ে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার চাওড়া ইউনিয়নের ৬৪২ জন জেলে রয়েছে। গত ১৪ অক্টোবর ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতিতে সকল জেলেদের মধ্যে জনপ্রতি ২৫ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়েছে। চাল বিতরণের ৬ দিন পরে চাল না পেয়ে ওই ইউনিয়নের কালিবাড়ি, কাউনিয়া,পাতাকাটা ও চদ্রা গ্রামের অর্ধশতাধিক জেলেরা চালের দাবীতে সোমবার দুপুরে আমতলী উপজেলা পরিষদের সামনে বিক্ষোভ করেন। বিক্ষোভ শেষে তারা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
অভিযোগে তারা উল্লেখ করেন জেলে কার্ড থাকা সত্ত্বেও তাদের চাল দেওয়া হয়নি।
কালিবাড়ি গ্রামের জেলে মিলন হাওলাদার বলেন, আমি একজন কার্ডধারী জেলে। আমার জেলে কার্ড নম্বর-১০০৪০৯০০৪৭০০০০৩৩৪। আমাকে চাল দেওয়া হয়নি। তিনি আরো অভিযোগ করে বলেন, মাস্টার রোলে আমার নাম রয়েছে। তাহলে আমার চাল কে নিয়েছে, আমি জানতে চাই।
অপর কার্ডধারী চালিতাবুনিয়া গ্রামের জেলে নাসির উদ্দিন, পাতাকাটা গ্রামের মো. নূর মোহাম্মদ হাওলাদার, চদ্রা গ্রামের কেরামত আকন, কাউনিয়া গ্রামের আরশেদ পাহলান ও ঘটখালী গ্রামের মো. আবু বক্কর সিদ্দিক চাল না পাওয়ার অভিযোগ করেন।
ওই সকল বিক্ষুদ্ধ জেলেরা তাদের বরাদ্দকৃত চাল পাওয়ার দাবীতে উপজেলা পরিষদের সামনে বিক্ষোভ করেন এবং ইউএনও বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
অভিযোগ পেয়েই সত্যতা যাচাইয়ের জন্য ইউএনও মো. রোকনুজ্জামান খান তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন।
কমিটির সদস্যরা হলেন, উপজেলা কৃষি অফিসার মো. রাসেল, মেরিন ফিসারিজ অফিসার মো. অলিউর রহমান ও উপজেলা ফ্যাসিলিটেটর মো. মাইনুল ইসলাম।
কমিটিকে আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন।
কমিটির প্রধান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রাসেল বলেন, এখনো চিঠি হাতে পাইনি, চিঠি পাওয়ার পরে তদন্ত শুরু করা হবে।
চাওড়া ইউপি চেয়ারম্যান আখতারুজ্জামান বাদল খানের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
প্যানেল চেয়ারম্যান মো. হারুন অর রশিদ বলেন, তালিকা অনুযায়ী ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতিতে সকল জেলেদের মাঝে চাল বিতরণ করা হয়েছে।
আমতলী উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা তন্ময় কুমার দাশ বলেন, তালিকা অনুযায়ী চাওড়া ইউনিয়নের ৬৪২ জন জেলেদের জন্য চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতিতে জেলেদের মাঝে ওই চাল বিতরণ করা হয়েছে। ২০২০ সালে জেলেদের তালিকা হাল নাগাদ করা হয়েছে। ২০১৪ সালের তালিকা থেকে যাচাই-বাছাই করে জেলে নয় এরকম অনেক জেলেদের নাম বাদ গেছে। তখন বাদ পরা জেলেদের নিকট থেকে জেলে কার্ড ফেরৎ আনা সম্ভব হয়নি। হয়তোবা বাদ পরা ওই সকল জেলেরা এখন চাল চাচ্ছে। বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখা হবে।
আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রোকনুজ্জামান খান বলেন, চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ পেয়েছি। ওই বিষয়ে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।









