পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় রাখাইন সম্প্রদায়ের মিশ্রীপাড়ায় অবস্থিত শতবর্ষী সীমা বৌদ্ধবিহারের মূল ফটক পর্যটক ও দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুজ্জামান ও মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম হাওলাদার রাখাইন নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করে সব ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার রাতে বিহারের মূল ফটকের তালা খুলে দেওয়া হয়। ফলে পর্যটক ও দর্শনার্থীদের জন্য বৌদ্ধবিহার পরিদর্শনে আর কোনো বাধা রইল না। আপাতত শঙ্কা কেটেছে। তবে বিহারের অধ্যক্ষ উত্তম মহাথেরো বিহার কমিটির সভাপতিকে মারধর ও লাঞ্ছিত করার ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার সকালে সীমা বৌদ্ধবিহারের সভাপতি রাখাইন মংলাচিংকে কয়েকজন ব্যক্তি মারধর ও লাঞ্ছিত করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে বুধবার রাখাইন পল্লির বাসিন্দারা প্রথমে বৌদ্ধবিহারের সামনে দাঁড়িয়ে নীরবে প্রতিবাদ জানান। পরে তাঁরা অনির্দিষ্টকালের জন্য বৌদ্ধবিহারের মূল ফটক বন্ধ করে দেন। এ সময় ফটকে দর্শনার্থীদের প্রবেশ বন্ধের নোটিশসংবলিত একটি ফেস্টুন টাঙানো হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত নাসির উদ্দিন হাওলাদারসহ দুজনকে আসামি করে মহিপুর থানায় একটি মামলা করা হয়েছে।
ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসন রাখাইন সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করে বৃহস্পতিবার রাত থেকে বৌদ্ধবিহারটি পর্যটক ও দর্শনার্থীদের জন্য পুনরায় উন্মুক্ত করার ব্যবস্থা করে।
বৌদ্ধবিহার কমিটির সভাপতি রাখাইন মংলাচিং জানান, বৌদ্ধবিহার ও মন্দিরের আয় বাড়ানোর উদ্দেশ্যে বিহারের সীমানাপ্রাচীরের দক্ষিণ-পশ্চিম পাশে একটি ছোট দোকান নির্মাণের কাজ শুরু করেন তাঁরা। এ সময় স্থানীয় দুই ব্যক্তি শামসুল আলম ও নাসির উদ্দিন হাওলাদার দোকান নির্মাণে বাধা দেন। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে নাসির উদ্দিন হাওলাদার তাঁর দিকে তেড়ে আসেন এবং তাঁকে মারধর ও লাঞ্ছিত করা হয় বলে অভিযোগ করেন মংলাচিং। মঙ্গলবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। এর প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ রাখাইন সম্প্রদায়ের লোকজন বুধবার সন্ধ্যা থেকে বৌদ্ধবিহার ও মন্দিরে পর্যটক-দর্শনার্থীদের প্রবেশ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দিয়েছিলেন।
মহিপুর থানার ওসি মো. শামীম হাওলাদার জানান, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। রাখাইন নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেন।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান জানান, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। রাখাইন নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি আপাতত নিরসন করা হয়েছে।
ফটক খুলে দেওয়ায় আজ শুক্রবার ভোর থেকে বহু পর্যটক ও দর্শনার্থী বৌদ্ধবিহার ও মন্দিরটি পরিদর্শনের সুযোগ পাচ্ছেন।









