জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ঐতিহাসিক ক্ষয়ক্ষতির ন্যায্য ক্ষতিপূরণের দাবিতে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকাল ১০টায় কলাপাড়া প্রেসক্লাব চত্বরে প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) কলাপাড়া উপজেলা সমন্বয়কারী মেজবাহউদ্দিন মান্নু, পরিবেশ সংগঠক তানজিল জামান জয়, নজরুল ইসলাম, নাজমুস সাকিব ও শিক্ষার্থী সাব্বির প্রমুখ।
পরিবেশ ও জলবায়ুবিষয়ক নাগরিক সংগঠন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), নদী, জলাশয় ও বনসম্পদ রক্ষায় কাজ করা পরিবেশবাদী উদ্যোগ ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আমরা কলাপাড়াবাসী যৌথভাবে এ কর্মসূচির আয়োজন করে।
বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ঐতিহাসিক ক্ষয়ক্ষতির ন্যায্য ক্ষতিপূরণ কোনো দয়া নয়, এটি আমাদের অধিকার। জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর অর্থনীতি থেকে উন্নত দেশগুলো বিপুল মুনাফা অর্জন করেছে এবং এখনো এ ধারা অব্যাহত রয়েছে। শক্তিশালী শিল্পোন্নত দেশ ও করপোরেশনগুলো এর সুবিধা ভোগ করছে। অথচ বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড়, নদীভাঙন ও ফসলহানির সবচেয়ে বড় বোঝা বহন করছেন কৃষক, শ্রমজীবী মানুষ এবং জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জনগণ।
তাঁরা আরও বলেন, জলবায়ু অভিযোজনের নামে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে নতুন ঋণের ফাঁদে ফেলা হচ্ছে। এ পরিস্থিতি বন্ধ করতে হবে। প্রয়োজন অনুদানভিত্তিক জলবায়ু অর্থায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং ঐতিহাসিকভাবে অধিক দূষণকারী দেশগুলোর কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়।
বক্তারা বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার হতে হবে জনগণের স্বার্থে, করপোরেট মুনাফা বৃদ্ধির নতুন ক্ষেত্র হিসেবে নয়। সাশ্রয়ী জ্বালানি, পরিবেশ সুরক্ষা এবং জনগণের মালিকানা নিশ্চিত করতে হবে।
এ ছাড়া কৃষিজমি, খাদ্য ও উৎপাদনের অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে তাঁরা বলেন, বাংলাদেশের খাসজমিতে ভূমিহীন মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা, কৃষকের ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত, উৎপাদন ব্যয় হ্রাস, স্থানীয় বীজের সুরক্ষা এবং পরিবেশবান্ধব কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি নারী কৃষকের শ্রম ও জমির অধিকারের স্বীকৃতি দিতে হবে এবং আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সামষ্টিক ও প্রথাগত ভূমির অধিকার রক্ষা করতে হবে।
তাঁরা আরও বলেন, খাদ্যকে করপোরেট মুনাফার পণ্য হিসেবে নয়, মানুষের মৌলিক অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তাই প্রশ্ন হলো—উন্নয়ন কার স্বার্থে এবং সম্পদের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে? যে অর্থনীতিতে মানুষের শ্রমে সম্পদ সৃষ্টি হয়, সেই অর্থনীতির সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকারও জনগণের হাতে থাকতে হবে।
বক্তারা বলেন, মুনাফার পৃথিবী নয়, মানুষের পৃথিবী গড়তে হবে। শুধু সভা-সেমিনার করে এসব দাবি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। এ জন্য কৃষক-শ্রমিকের ঐক্য এবং নারী-পুরুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।








