পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলা পরিসংখ্যান অফিসের পাঁচটি পদের মধ্যে চারটিই দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। ফলে ব্যাহত হচ্ছে অফিসের স্বাভাবিক কাজকর্ম এবং সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ জনগণ। জরিপের কাজে একমাত্র কর্মকর্তা বাইরে গেলে প্রায় সময়ই অফিস তালাবদ্ধ রাখতে হয়।
উপজেলা পরিসংখ্যান অফিস সূত্রে জানা গেছে, অফিসে উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা, জুনিয়র পরিসংখ্যান অফিসার ও চেইনম্যানসহ মোট চারটি পদ শূন্য রয়েছে। বর্তমানে মাত্র একজন ‘পরিসংখ্যান তদন্তকারী’ হিসেবে কর্মরত মোঃ আসাদুজ্জামানই পুরো অফিসের যাবতীয় দায়িত্ব পালন করছেন। কর্মকর্তা থেকে শুরু করে দাপ্তরিক কাজ এবং পরিচ্ছন্নতা সব দায়িত্বই একা সামলাতে হচ্ছে তাঁকে।
মাঠপর্যায়ের জরিপ ও দাপ্তরিক কাজের জন্য কর্মকর্তা বাইরে গেলে অফিস বন্ধ রাখা ছাড়া কোনো উপায় থাকে না। ফলে সেবা নিতে এসে বারবার ঘুরে যেতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
উপজেলার গোপালপুর গ্রামের বাসিন্দা ভুক্তভোগী ফিরোজ হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জরুরি কাজে উপজেলা পরিসংখ্যান অফিসে গিয়ে দেখি তালা ঝুলছে। বাধ্য হয়ে সেবা না নিয়েই বাড়িতে ফিরে আসতে হয়েছে। প্রায় সময়ই এই অফিসটি তালাবদ্ধ থাকে বলে শুনছি।
এ বিষয়ে বর্তমানে একমাত্র দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (পরিসংখ্যান তদন্তকারী) মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, চরম জনবল সংকট রয়েছে। পুরো অফিসের সব দায়িত্ব একাই পালন করতে হচ্ছে। দাপ্তরিক কাজ ছাড়াও জরিপের কাজে আমাকে প্রায়ই উপজেলার বিভিন্ন স্থান ও জেলায় যেতে হয়। অফিসে কোনো অফিস সহকারী বা এমএলএসএস না থাকায় আমি বাইরে গেলে বাধ্য হয়ে অফিসে তালা ঝুলিয়ে যেতে হয়। অন্তত একজন পিয়ন বা এমএলএস থাকলেও অফিসটা খোলা রাখা যেত।
জনবল সংকটের বিষয়টি স্বীকার করে জেলা পরিসংখ্যান অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ জানান, কাউখালী উপজেলা অফিসের জনবল সংকটের কথা আমরা অবগত আছি। বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। আশা করছি খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে জনবল নিয়োগের মাধ্যমে এই সংকটের সমাধান হবে।









