পিরোজপুর জেলা পুলিশ কার্যালয়ের আয়োজনে জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশে জেলা পুলিশের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত সভায় জুন ও জুলাই ২০২৬ মাসে অপরাধ দমন, মাদক উদ্ধার, গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিল ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ অবদান রাখায় বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুলিশ সদস্যদের সম্মাননা দেওয়া হয়। এ সময় বিশেষ পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি পেয়েছেন কাউখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আনোয়ার হোসেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন, পিরোজপুর জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মনজুর আহমেদ সিদ্দিকী। অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মঠবাড়িয়া সার্কেল) পার্থ চক্রবর্তী, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (নেছারাবাদ সার্কেল) প্রণয় রায়, কাউখালী থানার ওসি মোঃ আনোয়ার হোসেনসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় জুন ও জুলাই মাসে পিরোজপুর জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় মাদক উদ্ধার, গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিল, চাঞ্চল্যকর মামলার রহস্য উদঘাটন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ অবদান রাখা পুলিশ সদস্যদের হাতে সম্মাননা সনদ তুলে দেওয়া হয়।
জেলা পুলিশের অপরাধ দমন কার্যক্রম ও সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে পুলিশ সুপার মনজুর আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, “আমরা পিরোজপুরকে শতভাগ মাদক ও অপরাধমুক্ত জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। জুন ও জুলাই মাসে আমাদের পুলিশ সদস্যরা চরম প্রতিকূলতার মধ্যেও বীরত্বের সঙ্গে রেকর্ড পরিমাণ মাদক উদ্ধার এবং তালিকাভুক্ত আসামিদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছেন। যাদের কাজের মাধ্যমে জেলা পুলিশ প্রশংসিত হয়েছে, তাদের আজ পুরস্কৃত করা হলো। এই ধারা অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, “যারা সাধারণ মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক রেখে অপরাধ দমনে ভূমিকা রাখবেন, তারা পুরস্কৃত হবেন। আর অপকর্মে জড়িতদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
বিশেষ পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি পাওয়া কাউখালী থানার ওসি মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, “জেলা পুলিশ সুপারের দিকনির্দেশনা ও কাউখালী থানার প্রতিটি সদস্যের কঠোর পরিশ্রমে আমরা সফল হতে পেরেছি। মাদক ও অপরাধের বিরুদ্ধে আমাদের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বজায় থাকবে। এই পুরস্কার ও স্বীকৃতি ভবিষ্যতে দায়িত্ব পালনে আমাদের আরও বেশি অনুপ্রেরণা যোগাবে।
তিনি কাউখালী উপজেলাকে অপরাধ ও মাদকমুক্ত রাখতে সাধারণ জনগণের সর্বাত্মক সহযোগিতা ও তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানান।
সভা শেষে পুলিশ সুপার মনজুর আহমেদ সিদ্দিকী উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তাদের জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।








