পিরোজপুরের কাউখালীতে নদীতে টহল শেষে ফেরার পথে নৌ পুলিশের সদস্যদের ওপর সংঘবদ্ধ হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় মো. জাকির হোসেন নামে এক পুলিশ কনস্টেবলকে ছুরিকাঘাত ও ইট দিয়ে আঘাত করে গুরুতর আহত করা হয়েছে। হামলায় নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. আরমান হোসেনসহ আরও পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মামলার প্রধান আসামি মো. শান্ত (২২)কে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।
বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেলের দিকে উপজেলার আমরাজুড়ি ইউনিয়নের কুমিয়ান এলাকায় বিআইডব্লিউটিএ পন্টুনসংলগ্ন গোপাল স্টোরের সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নৌ পুলিশের একটি দল নদীতে নিয়মিত টহল শেষে ফেরিঘাট ও লঞ্চঘাট এলাকায় ফুট পেট্রোল করছিল। এ সময় মো. শান্ত পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে গালিগালাজ শুরু করেন। এর কারণ জানতে চাইলে তিনি পুলিশের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। পরে খবর পেয়ে কাউখালী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. আরমান হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন।
এ সময় শান্ত ও তার সহযোগীরা বাঁশের লাঠি, ইট ও ধারালো চাকু নিয়ে নৌ পুলিশের সদস্যদের ওপর সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালায় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
হামলাকারীরা কনস্টেবল মো. জাকির হোসেনকে চাকু ও ইট দিয়ে আঘাত করে গুরুতর জখম করে। এ সময় তার কাছে থাকা মোবাইল ফোনও ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
জাকির হোসেনকে উদ্ধার করতে গিয়ে নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. আরমান হোসেন, এসআই প্রসেনজিত দেবনাথ, কনস্টেবল শ্যামলেশ কুমার মণ্ডল, কনস্টেবল মো. সাকির হোসেন ও কনস্টেবল মো. পারভেজ আহত হন।
পুলিশের চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে খবর পেয়ে কাউখালী থানা-পুলিশ আহত নৌ পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করে কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়।
কাউখালী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. আরমান হোসেন বলেন, নদীতে নিয়মিত টহল শেষে ফেরিঘাট ও লঞ্চঘাট এলাকায় ফুট পেট্রোল করার সময় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ সদস্যদের ওপর অতর্কিতভাবে হামলা চালানো হয়। এতে কনস্টেবল মো. জাকির হোসেন গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ছাড়া আরও কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার অন্য আসামিদেরও আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এ ঘটনায় নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. আরমান হোসেন বাদী হয়ে কাউখালী থানায় সরকারি কাজে বাধা, পুলিশ সদস্যদের মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ অভিযান চালিয়ে মামলার ১ নম্বর আসামি মো. শান্তকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) আদালতে পাঠানো হয়েছে।
কাউখালী থানার ওসি (তদন্ত) এবাদ আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গ্রেপ্তারকৃত শান্তকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।









