পিরোজপুরের কাউখালীতে এসএসসি, দাখিল ও এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষা-২০২৬-এর ফলাফল পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বেলা ১১টায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ হলরুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামানের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল হান্নানের সঞ্চালনায় সভায় উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা অংশ নেন।
সভায় বক্তব্য দেন রঘুনাথপুর ইজিএস শিক্ষা নিকেতনের প্রধান শিক্ষক তানভির আহমেদ, হোগলা বেতকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কিরণ চন্দ্র হালদার, কাউখালী আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাইনুল ইসলাম, কেউন্দ্রিয়া শহীদ স্মৃতি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শামসুর রহমান মিজান, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা হোসাইন আহমেদ, মাওলানা আব্দুর রহিম, মাওলানা মিজানুর রহমান, মাদ্রাসা সুপার মাওলানা মাহমুদুল হাসান, মাওলানা দেলোয়ার হোসেন, কারিগরি শাখার অধ্যক্ষ হারুন অর রশিদ, ক্রীড়া শিক্ষক বাবুল ঘোষ, সিনিয়র সাংবাদিক রিয়াদ মাহমুদ সিকদার, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রফিক প্রমুখ।
সভায় উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ২০২৬ সালের পরীক্ষার ফলাফল পর্যালোচনা করা হয়। ফলাফল সন্তোষজনক না হওয়ায় আগামী শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থীদের ফলাফল কীভাবে আরও উন্নত করা যায় এবং এ জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
আলোচনায় শিক্ষকরা বলেন, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় অভিভাবকদের পর্যাপ্ত সম্পৃক্ততা ও সমন্বয়ের অভাব, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার সমস্যার কারণে শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে মাদ্রাসা পর্যায়ে বাল্যবিবাহের কারণে অনেক শিক্ষার্থীর পড়াশোনা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলেও শিক্ষকরা উল্লেখ করেন।
সভায় শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা, অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি, দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ পাঠদান, শিক্ষকদের মধ্যে সমন্বয় এবং প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “শিক্ষার মানোন্নয়নে শুধু শিক্ষক বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একার পক্ষে ভালো ফলাফল নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এজন্য শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও প্রশাসন—সবার সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। কোথায় দুর্বলতা রয়েছে, তা চিহ্নিত করে আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই পরিকল্পিতভাবে কাজ করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “যেসব প্রতিষ্ঠানের ফলাফল প্রত্যাশিত পর্যায়ে হয়নি, তাদের ফলাফল বিশ্লেষণ করে ঘাটতিগুলো চিহ্নিত করতে হবে। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়মুখী করা, ঝরে পড়া রোধ এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধেও সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।”
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান বলেন, “২০২৬ সালের এসএসসি, দাখিল ও ভোকেশনাল পরীক্ষার ফলাফল আমরা প্রতিষ্ঠানভিত্তিকভাবে পর্যালোচনা করছি। যে বিষয়গুলোতে শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে আগামী শিক্ষাবর্ষে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, “শিক্ষকদের পাশাপাশি অভিভাবকদেরও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি নজর বাড়াতে হবে। নিয়মিত ক্লাস, দুর্বল শিক্ষার্থীদের আলাদা পরিচর্যা এবং অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে ফলাফল আরও ভালো করার সুযোগ রয়েছে।”
সভায় আগামী শিক্ষাবর্ষে উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ফলাফল উন্নত করতে সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।









