দশমিনা উপজেলা ডাঃ ডলি আকবর মহিলা কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ডাঃ আলী আকবর আর নেই। রবিবার (১৬ আগস্ট) সকাল ৬টার দিকে দশমিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
ডাঃ আলী আকবর উপজেলার আলীপুর ইউনিয়নের গগন আলীর ছেলে। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭০ বছর। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
জানা যায়, ‘গরিবের ডাক্তার’ হিসেবে খ্যাত ডাঃ আলী আকবর একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। রবিবার সকালে দশমিনা উপজেলা সদরের জেলা পরিষদ ডাকবাংলো-সংলগ্ন নিজ বাসভবনে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। পরে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে স্বজনরা তাঁকে নিকটস্থ দশমিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে স্বজনরা তাঁর মরদেহ বাসভবনে নিয়ে আসেন।
উপজেলায় নারী শিক্ষার অগ্রগতির লক্ষ্যে ২০০৯ সালে দশমিনা উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে তাঁর সহধর্মিণী সামছুরন্নাহার খানম ডলির সহযোগিতায় ‘ডাঃ ডলি আকবর মহিলা কলেজ’ প্রতিষ্ঠা করেন ডাঃ আলী আকবর।
ডাঃ আলী আকবর এলাকায় ‘গরিবের ডাক্তার’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অসহায় ও দরিদ্র রোগীরা তাঁর কাছে চিকিৎসা নিতে এলে নির্দিষ্ট কোনো ভিজিট নিতেন না; রোগীরা সামর্থ্য অনুযায়ী যা দিতেন, তাই গ্রহণ করতেন। কর্মজীবনে অর্থের প্রতি তাঁর কোনো লোভ-লালসা ছিল না। রোগী দেখার মাধ্যমে উপার্জিত অর্থের একটি বড় অংশ সঞ্চয় করে তিনি শিক্ষার মানোন্নয়ন ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজে ব্যয় করতেন।
তিনি ডাঃ ডলি আকবর মহিলা কলেজের পাশাপাশি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও হাফিজিয়া মাদ্রাসা নির্মাণসহ বিভিন্ন সামাজিক ও শিক্ষামূলক কর্মকাণ্ডে নিজেকে আত্মনিয়োগ করেন।
তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে চরাঞ্চলসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকা, রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ মানুষ তাঁকে একনজর দেখতে তাঁর বাসভবনে ছুটে আসেন।
সরকারি আবদুর রশিদ তালুকদার কলেজের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী অধ্যাপক আলহাজ্ব মহিউদ্দিন হেলালি বলেন, “ডাঃ আলী আকবর একজন সৎ ও নিষ্ঠাবান ব্যক্তি ছিলেন। আমি প্রায়ই দশমিনা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনের সড়কে তাঁর রোগী দেখার চেম্বারে গিয়ে বসতাম। চরাঞ্চলসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে রোগীরা তাঁর কাছে চিকিৎসা নিতে আসতেন। কেউ টাকা দিতেন, কেউ দিতেন না—কখনো তাঁকে ভিজিট নিয়ে কথা বলতে দেখিনি।”
তিনি আরও বলেন, “উপজেলা সদরে ডাঃ ডলি আকবর মহিলা কলেজ, একটি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও হাফিজিয়া মাদ্রাসা নির্মাণ করেছেন তিনি। এমন একজন মানুষকে আমরা হারিয়েছি, যা কখনো পূরণ হওয়ার নয়। আমি তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করি।”
রবিবার বিকেল ৪টায় দশমিনা সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে তাঁর প্রথম জানাজা এবং বিকেল ৫টায় আলীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে পারিবারিক গোরস্থানে তাঁর মরদেহ দাফন করা হবে।









