পটুয়াখালীর মহিপুরে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দায়ের করা চাঁদাবাজি মামলা প্রত্যাহার, নিরপরাধ ব্যক্তিদের হয়রানি বন্ধ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা দাবি করেন, মামলায় একজন মাদ্রাসা শিক্ষক, প্রবাসীসহ কয়েকজন নিরীহ ব্যক্তিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আসামি করা হয়েছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে মহিপুরের পাইকবাড়ী স্ট্যান্ড এলাকায় এলাকাবাসীর উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রায় শতাধিক মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধের ঘটনাকে কেন্দ্র করে একই এলাকার বাসিন্দা মো. ইমরান হোসেন বাদী হয়ে যে চাঁদাবাজি মামলা দায়ের করেছেন, তাতে প্রকৃত ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত নন—এমন কয়েকজন সম্মানিত ব্যক্তি ও সাধারণ মানুষকে আসামি করা হয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, এ মামলার মাধ্যমে সামাজিকভাবে সম্মানহানি ও অযথা হয়রানির শিকার হচ্ছেন আসামিরা।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন মাওলানা মো. আইয়ুব আলী। তিনি বলেন, “মাদ্রাসা শিক্ষক মাওলানা মাহতাব উদ্দিন, প্রবাসী এবং স্থানীয় কয়েকজন সম্মানিত ব্যক্তির বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তারা এলাকায় সুনামের সঙ্গে বসবাস করছেন এবং কারও সঙ্গে তাদের কোনো বিরোধ নেই। আমরা এ মামলার সুষ্ঠু তদন্ত এবং নিরপরাধ ব্যক্তিদের অব্যাহতির দাবি জানাই।”
স্থানীয় বাসিন্দা ফাতেমা বেগমসহ অন্যান্য বক্তারা বলেন, জমি-সংক্রান্ত বিরোধের আইনগত সমাধানের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু এ ধরনের বিরোধকে কেন্দ্র করে নিরীহ মানুষকে ফৌজদারি মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করা হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। তারা প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং নিরপরাধ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা আরও বলেন, মামলায় যাদের আসামি করা হয়েছে তাদের মধ্যে শিক্ষক, প্রবাসী ও সাধারণ মানুষ রয়েছেন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত না হলে তাদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক কার্যক্রম বন্ধ করে আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।
জানা গেছে, সম্প্রতি জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে মো. ইমরান হোসেন বাদী হয়ে মহিপুর থানায় একটি চাঁদাবাজি মামলা দায়ের করেন। মামলায় লতিফপুর ও মনোহারপুর এলাকার আটজনকে আসামি করা হয়েছে। বর্তমানে মামলাটি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তদন্ত করছে।
মামলার আসামিরা হলেন—মো. দেলোয়ার হোসেন (৩৭), আব্দুল মতিন গাজী (৩৫), মো. শহিদুল ইসলাম (৩৫), মাওলানা মো. মাহতাব উদ্দিন (৫৫), মো. আলতাফ হোসেন গাজী (৫৫), মো. রাজু খলিফা (২৫), মো. শাহিন মীর (৩৮) ও মঞ্জু হাওলাদার (৩৭)।
এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষ মো. ইমরান হোসেন বলেন, “একই দাগ ও খতিয়ানে আমার এবং মোহাম্মদ মুজিবুর রহমানের জমি রয়েছে। কিন্তু তিনি রাস্তার সম্মুখভাগের পুরো অংশ একাই ভোগদখল করতে চান, যা যৌক্তিক। যেহেতু একই দাগে উভয়ের জমি রয়েছে, তাই রাস্তার সামনের অংশে উভয়েরই অধিকার রয়েছে। মূলত এ বিষয়টি নিয়েই বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে।”
তবে মানববন্ধনকারীদের দাবি, জমি-সংক্রান্ত বিরোধের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে নিরপরাধ ব্যক্তিদের মামলা থেকে অব্যাহতি দিতে হবে এবং হয়রানিমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে



