মাইক্রোপ্লাস্টিকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে পুরোপুরি মুক্ত থাকা বর্তমানে কিছুটা কঠিন হলেও, দৈনন্দিন জীবনে কিছু সচেতন অভ্যাস গড়ে তুলে আমরা এর সংস্পর্শ অনেকখানি কমিয়ে আনতে পারি।
মাইক্রোপ্লাস্টিকের গ্রহণ কমাতে প্রধান প্রধান করণীয়গুলো নিচে আলোচনা করা হলো:
১. খাদ্যাভ্যাস ও পানি পানের ক্ষেত্রে
প্লাস্টিক বোতলের পানি এড়িয়ে চলুন: প্লাস্টিকের বোতলে থাকা প্রক্রিয়াজাত পানিতে সিঙ্গেল-ইউজ প্লাস্টিকের সূক্ষ্ম কণা বেশি থাকে। সম্ভব হলে কাঁচ, স্টেইনলেস স্টিল বা ফিল্টার করা পানি ব্যবহার করুন।
চা/কফির ফিল্টার ব্যাগে সচেতনতা: অনেক টি-ব্যাগে প্লাস্টিকের সিলিকন বা পলিমার মিশ্রিত থাকে। পাত চা (Loose leaf tea) ব্যবহার করা বা মেটাল ফিল্টার ব্যবহার করা অনেক বেশি নিরাপদ।
মাইক্রোওয়েভে প্লাস্টিক পরিহার: প্লাস্টিকের পাত্রে খাবার রেখে তা মাইক্রোওয়েভ ওভেনে গরম করবেন না। ওভেনের তাপে পাত্র থেকে প্রচুর পরিমাণে মাইক্রোপ্লাস্টিক খাবারে মিশে যায়। সবসময় কাঁচ বা সিরামিকের পাত্র ব্যবহার করুন।
প্লাস্টিকের চপিং বোর্ড বাদ দিন: সবজি বা মাছ-মাংস কাটার সময় প্লাস্টিক বোর্ড থেকে কাটিংয়ের মাধ্যমে প্লাস্টিকের কণা খাবারে মেশে। কাঠ বা বাঁশের তৈরি চপিং বোর্ড ব্যবহার করা শ্রেয়।
২. রান্নাবান্না ও খাবার সংরক্ষণ
কাঁচ বা মেটালের পাত্র ব্যবহার: খাবার সংরক্ষণের জন্য প্লাস্টিকের কৌটার বদলে কাঁচের জার বা স্টেইনলেস স্টিলের পাত্র বেছে নিন।
প্রসেসড ফুড কমান: প্যাকেটজাত বা প্রক্রিয়াজাত খাবারে প্লাস্টিক প্যাকেজিংয়ের কারণে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি বেশি পাওয়া যায়। যতটা সম্ভব তাজা ও প্রাকৃতিক খাবার গ্রহণ করুন।
৩. পোশাক ও লন্ড্রি ব্যবস্থাপনা
প্রাকৃতিক তন্তুর পোশাক পরিধান: নাইলন, পলিয়েস্টার বা এক্রিলিকের মতো সিন্থেটিক কাপড়ের পোশাকে প্রচুর ক্ষতিকর কৃত্রিম তন্তু থাকে। তুলা (Cotton), লিনেন বা পশমের (Wool) তৈরি পোশাক ব্যবহার বাড়ান।
পোশাক ধোয়ার অভ্যাস: সিন্থেটিক কাপড় ধোয়ার সময় প্রচুর ওয়াশিং মাক্রোফাইবার নির্গত হয়।
কাপড় সম্পূর্ণ লোড দিয়ে ঠাণ্ডা পানিতে ধোওয়ার চেষ্টা করুন (কম ঘর্ষণে কম ফাইবার খোলে)।
সম্ভব হলে ওয়াশিং মেশিনে Microfiber Catcher বা ফিল্টার ব্যাক ব্যবহার করুন।
৪. ঘরের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা
নিয়মিত ভ্যাকুয়াম ও মোছা: আমাদের ঘরের ধুলাবালির একটি বড় অংশ আসে সিন্থেটিক কার্পেট, আসবাবপত্র ও পোশাকের ঘর্ষণ থেকে সৃষ্ট প্লাস্টিক তন্তু থেকে। নিয়মিত ভেজা কাপড় দিয়ে ঘর মোছা এবং HEPA ফিল্টারযুক্ত ভ্যাকুয়াম ব্যবহার করলে এটি কমে।
প্লাস্টিকের কার্পেট/ম্যাট কমান: ঘরের মেঝেতে সিন্থেটিক ম্যাট বা কার্পেটের ব্যবহার সীমিত রাখুন।
৫. ব্যক্তিগত যত্ন ও প্রসাধন সামগ্রী
মাইক্রোবিডস এড়িয়ে চলুন: অনেক ফেসওয়াশ, স্ক্রাব ও টুথপেস্টে ছোট ছোট প্লাস্টিক কণা (Microbeads) থাকে। উপাদান তালিকায় Polyethylene (PE), Polypropylene (PP) বা Polyethylene Terephthalate (PET) দেখলে সেগুলো পরিহার করুন।
ন্যাচারাল বিউটি প্রোডাক্ট: প্রাকৃতিক বা অর্গানিক উপাদানে তৈরি স্কিনকেয়ার সামগ্রী বেছে নিন।
সংক্ষেপে: প্লাস্টিক সম্পূর্ণ বর্জন করা কঠিন হলেও প্লাস্টিক পাত্রে গরম খাবার না খাওয়া, কাঁচ ও মেটালের বিকল্প ব্যবহার এবং প্রাকৃতিক তন্তুর পোশাক পরা শুরু করলেই আপনি আপনার শরীরে মাইক্রোপ্লাস্টিকের প্রবেশ উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনতে পারবেন।









