পটুয়াখালীর দুমকিতে যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন এবং গর্ভের ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগে দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি দীর্ঘ দুই বছরেও গ্রেফতার হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এদিকে মামলা প্রত্যাহারের জন্য ভুক্তভোগী গৃহবধূকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া এবং ব্যক্তিগত ছবি-ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও করেছেন তিনি। এতে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হওয়ার আশঙ্কায় দিন কাটছে ভুক্তভোগী মাহমুদা নাসরিন (নুসরাত জাহান) ও তার পরিবারের।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ৩১ জানুয়ারি নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে এবং পরে ২০২৩ সালের ৩ জানুয়ারি এক লাখ টাকা কাবিনে দুমকি উপজেলার লেবুখালী গ্রামের মাহফুজুর রহমানের মেয়ে মাহমুদা নাসরিনের সঙ্গে বাউফল উপজেলার মান্দারবন গ্রামের নসু গাজীর ছেলে আল আমীনের বিয়ে হয়।
বিয়ের পর আশুলিয়ায় সংসার করার সময় আল আমীন দুই লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে মাহমুদার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। মেয়ের সংসার টিকিয়ে রাখতে ভুক্তভোগীর পরিবার বিভিন্ন সময়ে প্রায় ১০ লাখ টাকা দিলেও নির্যাতন বন্ধ হয়নি। একপর্যায়ে আল আমীনের পরকীয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে দাম্পত্য কলহ তীব্র আকার ধারণ করে এবং পরে তিনি আত্মগোপনে চলে যান।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর বিচার চাইতে স্বামীর বাড়িতে গেলে শ্বশুর-শাশুড়িসহ পরিবারের সদস্যরা মাহমুদাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেন। সে সময় তিনি তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। পেটে গুরুতর আঘাতের কারণে তার গর্ভের ভ্রূণ নষ্ট হয়ে যায়। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
ঘটনার পর আল আমীনকে প্রধান আসামি করে বাউফল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়। তবে ভুক্তভোগীর দাবি, তদন্ত কর্মকর্তা আসামিদের গ্রেফতার না করেই ২০২৫ সালের ২৫ জুলাই অভিযোগ অসত্য উল্লেখ করে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।
পরবর্তীতে ওই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজি আবেদন করলে আসামিপক্ষ আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন মাহমুদা। তার দাবি, বর্তমানে হোয়াটসঅ্যাপে কল ও বার্তা পাঠিয়ে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। অন্যথায় ব্যক্তিগত ছবি-ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে দুমকি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে গেলেও তা যথাযথভাবে আমলে নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে প্রধান আসামি আল আমীনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগী ও তার পরিবার দ্রুত প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।









