পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয়ে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান। তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের এই তিন মাসে পবিপ্রবিকে বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় এবং ওয়ার্ল্ড র্যাঙ্কিংয়ে নিয়ে আসার জন্য কিছু পদক্ষেপ নিয়েছি, যা বর্তমানে দৃশ্যমান।
শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক ও গবেষণানির্ভর শিক্ষাঙ্গন গড়ার লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৬ বছর ধরে চলা অনিয়ম এবং শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে অস্থিরতা ও হীনম্মন্যতা কাজ করছিল, তা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছি। প্রতিটি শাখায় গিয়ে অফিস কার্যক্রম নিশ্চিত করছি। শিক্ষকদের শিক্ষা ও গবেষণায় উদ্বুদ্ধ করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করতে পরিকল্পনা ও প্রকৌশল বিভাগের সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে কৃষি, মৎস্যবিজ্ঞান, ভেটেরিনারি, পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান, ব্যবসায় প্রশাসন, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, পরিবেশবিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, আইন ও ভূমি প্রশাসন, প্রকৌশল এবং সমুদ্রবিজ্ঞানসহ মোট ১০টি অনুষদ চালু রয়েছে। দক্ষ জনশক্তি তৈরির লক্ষ্যে নতুন বিভাগ ও অনুষদ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এর অংশ হিসেবে ফিজিওথেরাপি অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন, ফিজিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড স্পোর্টস এবং নার্সিং অ্যান্ড হেলথ সায়েন্স বিভাগের সমন্বয়ে নতুন হেলথ সায়েন্স অনুষদ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৮তম রিজেন্ট বোর্ড সভায় অনুমোদিত হয়েছে। এখন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের অনুমোদন পেলেই পরবর্তী প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আগামী শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তি করার পরিকল্পনা রয়েছে। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হবে। অবহেলিত দক্ষিণাঞ্চলে স্বাস্থ্যবিজ্ঞানভিত্তিক উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।
শিক্ষার্থীদের আর্থিক সামর্থ্যের কথা বিবেচনা করে বরিশাল ও পটুয়াখালীতে টিউশন ও অন্যান্য কাজে নিয়মিত যাতায়াতকারী শিক্ষার্থীদের বাসভাড়া সম্পূর্ণ মওকুফ করা হয়েছে। পরিবহন, অর্থ ও হিসাব শাখায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নতুন শিক্ষার্থীরা যাতে র্যাগিংমুক্ত ও শিক্ষাবান্ধব ক্যাম্পাসে চলাফেরা করতে পারে, তা নিশ্চিত করতে কাজ করছি। ক্যাম্পাসকে মাদক ও র্যাগিংমুক্ত করতে বিভিন্ন কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।
দক্ষিণবঙ্গের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ পবিপ্রবি। কৃষি গুচ্ছ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি গুচ্ছ থেকে দুই দফায় শিক্ষার্থী ভর্তি করা হচ্ছে। আমরা এবার সর্বোচ্চ সংখ্যক বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ে গঠিত জিএসটি গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার দায়িত্ব নিয়েছি এবং ইতোমধ্যেই ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। এখানে অনেক মেধাবী শিক্ষক রয়েছেন এবং গবেষণার জন্য ভালো সুযোগ রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট আধুনিকায়ন, সর্বক্ষেত্রে অটোমেশন চালুসহ বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পবিপ্রবির গবেষণার ফলাফল সারা দেশসহ বিশ্বের কাছে ছড়িয়ে দেওয়া আমার মূল লক্ষ্য। শ্রেণিকক্ষ ও গবেষণাগারে শিক্ষা ও গবেষণার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে কাজ করছি।
মতবিনিময় সভায় প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এ. বি. এম. সাইফুল ইসলাম, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, প্রক্টর অধ্যাপক আবুল বাশার খান, অফিস অব দ্য ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট অ্যাফেয়ার্সের পরিচালক ড. হাবিব মোহাম্মদ তুষার, প্রধান খামার তত্ত্বাবধায়ক মো. আরিফুর রহমান, জনসংযোগ ও প্রকাশনা বিভাগের পরিচালক ড. রাহাত মাহমুদ, উপপরিচালক মো. মাহফুজুর রহমান সবুজ এবং পবিপ্রবি, দুমকি ও পটুয়াখালী জেলায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।









