পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে তাবিজ দেওয়ার কথা বলে এক নারীকে নিজ বাড়িতে ডেকে এনে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মো. মোস্তাফিজুর রহমান মাহাবুব (৪৫) নামে এক জামায়াত নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে উপজেলার মাধবখালী ইউনিয়নের উত্তর চৈতা গ্রাম থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি মাধবখালী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি। পেশায় তিনি একজন পল্লী চিকিৎসক এবং বাড়ির পাশেই একটি ফার্মেসি পরিচালনা করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান স্থানীয়ভাবে তাবিজ-কবজ দিতেন। পরিচয়ের সূত্রে ভুক্তভোগী নারী তার ফার্মেসি থেকে নিয়মিত ওষুধ কিনতেন। একপর্যায়ে চিকিৎসা ও পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ গড়ে ওঠে।
অভিযোগে বলা হয়, বৃহস্পতিবার এক আত্মীয় শিশুর লেখাপড়ার জন্য তাবিজ নিতে ওই নারী অভিযুক্তের ফার্মেসিতে যান। সেখানে তাকে না পেয়ে ফোন করলে মাহাবুব বাড়িতে থাকার কথা জানিয়ে সেখানে যেতে বলেন। পরে ওই নারী তার বাড়িতে গেলে বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হয়। একপর্যায়ে ঘরে অন্য কাউকে না দেখে তিনি বের হয়ে আসতে চাইলে অভিযুক্ত তাকে জোরপূর্বক আটকে রেখে টানাহেঁচড়া করেন এবং তার পরিহিত বোরখা ও হিজাব খুলে ধর্ষণের চেষ্টা করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা শাহরুখ মিরাজ জানান, সন্ধ্যার দিকে ওই নারীর উপস্থিতি দেখে এলাকাবাসীর সন্দেহ হয়। পরে কয়েকজন ঘরে প্রবেশ করলে ওই নারী অভিযোগ করেন, তাবিজ দেওয়ার কথা বলে তাকে ডেকে এনে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে।
এ ঘটনায় শুক্রবার ভুক্তভোগী নারী মির্জাগঞ্জ থানায় ধর্ষণচেষ্টা মামলা দায়ের করেন।
মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুজ্জামান বলেন, ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে ধর্ষণচেষ্টার মামলা হয়েছে। অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান মাহাবুবকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং মামলার পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা সিরাজুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে জানা হয়নি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।








