পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর কেন্দ্রীয় নেতা নুরুজ্জামান কাফির বিরুদ্ধে একটি সরকারি বিদ্যালয়ের জমি দখল করে চলাচলের রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে নুরুজ্জামান কাফি অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, তিনি কোনো জোর-জবরদস্তি বা অবৈধ দখল করেননি।
অভিযোগ রয়েছে, কলাপাড়ার খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জমির একটি অংশ কেটে নিজের জমিতে যাতায়াতের জন্য রাস্তা নির্মাণ করেছেন নুরুজ্জামান কাফি। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবদুর রহিম দাবি করেন, অন্তত সাত দিন আগে রাতের আঁধারে ওই পথ তৈরি করা হয়। বিদ্যালয়ের পেছনে কাফির ব্যক্তিগত জমি রয়েছে এবং সেখানে যাতায়াতের সুবিধার্থে এ রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নিজস্ব মালিকানাধীন ২১ একর ৭৬ শতক জমি রয়েছে। যার মৌজা রাজপাড়া, বিএস খতিয়ান নম্বর-১২। ১৪৩২ সাল পর্যন্ত জমির খাজনা পরিশোধ করা হয়েছে। ২০১৮ সালে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ হওয়ার পর বিধি অনুযায়ী জমি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের নামে হস্তান্তর করা হয়।
বিদ্যালয়ের দাবি, জমিটির মালিকানা নিয়ে প্রায় ৩০ বছর ধরে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। বর্তমানে বিষয়টি উচ্চ আদালতে বিচারাধীন এবং সিভিল রিভিউ পিটিশন নং-২৪৬/২০২৫ এখনও নিষ্পত্তি হয়নি। এর মধ্যেই নুরুজ্জামান কাফি স্থানীয় সালাউদ্দিন নয়ন পাহলওয়ানদের কাছ থেকে ৬ শতাংশ জমি ক্রয়ের দাবি তুলে সেখানে রাস্তা নির্মাণ করেছেন, যা সম্পূর্ণ অবৈধ বলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মনে করছে।
এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবদুর রহিম জানান, আদালতের নির্দেশনা সংবলিত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও কলাপাড়া থানায় জমা দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে স্থানীয় সালাউদ্দিন নয়ন পাহলওয়ান পক্ষের দাবি, তাদের পূর্বপুরুষদের সঙ্গে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রায় ৩০ বছর ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। ২০২৫ সালে উচ্চ আদালত তাদের পক্ষে রায় দিয়েছেন। পরে নুরুজ্জামান কাফিকে যাতায়াতের সুবিধার্থে ৬ শতাংশ জমি বায়না চুক্তির মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে। তাই এখানে কোনো অনিয়ম হয়নি বলে তারা দাবি করেন।
নুরুজ্জামান কাফি বলেন, “আমি প্রায় ৩০ লাখ টাকায় বিদ্যালয়ের জমির পেছনে একটি জমি কিনেছি। সেখানে যাওয়ার কোনো রাস্তা ছিল না। এ কারণে প্রথমে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলি। পরে আদালতের রায় পাওয়ার পর স্থানীয়দের কাছ থেকে ৬ শতাংশ জমি নিয়ে যাতায়াতের ব্যবস্থা করেছি। রাতের আঁধারে নয়, দিনের বেলাতেই কাজ করা হয়েছে। এখানে কোনো জোর-জবরদস্তি বা অবৈধ দখলের ঘটনা ঘটেনি।”
কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম জানান, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে উভয় পক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুজ্জামান বলেন, “উচ্চ আদালতের নির্দেশনার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন কাজ করছে।”
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা-সমালোচনা চললেও বিষয়টির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।









