পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় বাড়িতে ডেকে নিয়ে বিস্কুটের প্রলোভন দেখিয়ে দুই শিশুকে একাধিকবার ধর্ষণের লোমহর্ষক অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় মো. আমিনুল ইসলাম (৪৫) নামের অভিযুক্ত এক ব্যক্তিকে সোমবার রাতেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুরা অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ‘দাদু’ বলে ডাকত। এই সুবাদে তারা মাঝেমধ্যে আসামির বাড়িতে খেলতে যেত। বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে অভিযুক্ত আমিনুল সুকৌশলে বিস্কুট খাওনোর লোভ দেখিয়ে শিশুদের নিজের শয়নকক্ষে ডেকে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ঘটনা শেষে শিশুদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে সে বলত, “কান্না করবা না এবং এই বিষয়ে তোমার বাড়ির কাউকে জানালে তোমাকে মেরে ফেলব।” এই কৌশলে গত শুক্রবার ও শনিবার ৬ বছর বয়সী এক শিশুকে এবং রবিবার একইভাবে ৫ বছর বয়সী অন্য এক শিশুকেও সে ধর্ষণ করে।
ভুক্তভোগী এক শিশুর বড় আম্মা ঘটনার বর্ণনা দিয়ে জানান, শিশু দুটিকে অস্বাভাবিক কান্নাকাটি করতে দেখে তিনি তাদের জিজ্ঞাসা করেন। তখন প্রথম শিশুটি ভয়ে কিছুই বলতে না পেরে শুধু কাঁদছিল। এরপর দ্বিতীয় শিশুটি প্রচণ্ড ব্যথার কথা জানিয়ে পুরো ঘটনাটি খুলে বলে। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি পরিবারের অন্য সদস্যদের জানানো হয় এবং পরে তাদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।
এ বিষয়ে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মাছুদ বলেন, “গত রাতে দুই শিশু শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। শারীরিক পরীক্ষার সময় তাদের শরীরে আঘাতের দাগ পাওয়া গেছে। আমরা প্রাথমিকভাবে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করেছি। শিশুরা বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছে এবং তারা শারীরিকভাবে সুস্থ আছে।”
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বোদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা বলেন, “ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা রাতেই অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত মো. আমিনুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছি। এই ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আসামিকে আদালতে প্রেরণ করার প্রক্রিয়া চলছে।”








