আগামী ১৩ জুলাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বরিশাল সফরকে কেন্দ্র করে দক্ষিণাঞ্চলবাসীর দীর্ঘদিনের অবহেলিত উন্নয়ন চাহিদাগুলো নতুন করে সামনে এসেছে। বরিশালের সাধারণ নাগরিক সমাজের ব্যানারে আয়োজিত নাগরিক উদ্যোগের পক্ষ থেকে জাতীয়, আঞ্চলিক এবং বরিশাল সিটি করপোরেশন ও সদর এলাকার উন্নয়নসংক্রান্ত মোট ২৫ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছে।
দাবিগুলো তুলে ধরে সংগঠনের আহ্বায়ক কাজী মিজানুর রহমান বলেন, দক্ষিণাঞ্চল দেশের অর্থনীতি, কৃষি, মৎস্য ও পর্যটন খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সরকারি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অঞ্চলটি দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত হয়ে আসছে। প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে এসব দাবির বাস্তবায়নে কার্যকর ঘোষণা ও উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তারা আশা করছেন।
জাতীয় পর্যায়ের দাবি
জাতীয় পর্যায়ে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ভাঙ্গা-কুয়াকাটা মহাসড়ক (এন-৮) দ্রুত ছয় লেনে উন্নীতকরণ, ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণ, দক্ষিণাঞ্চলে শিল্পায়নের লক্ষ্যে গ্যাস সংযোগ পরিকল্পনা ঘোষণা, পায়রা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নিয়মিত ড্রেজিং কার্যক্রম পরিচালনা।
এছাড়া কুয়াকাটাকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সমন্বিত প্রকল্প গ্রহণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় উপকূলীয় এলাকায় টেকসই ও উচ্চতর বেড়িবাঁধ নির্মাণের জাতীয় কর্মসূচি গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
আঞ্চলিক উন্নয়ন পরিকল্পনার দাবি
বরিশাল, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, বরগুনা, ভোলা ও ঝালকাঠিকে নিয়ে একটি সমন্বিত দক্ষিণাঞ্চল উন্নয়ন মহাপরিকল্পনা (মাস্টার প্ল্যান) প্রণয়নের আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি দক্ষিণাঞ্চল উন্নয়ন বোর্ড গঠন, কৃষি-মৎস্য ও পর্যটনভিত্তিক শিল্পে বিশেষ প্রণোদনা এবং নদী, খাল ও উপকূলীয় অঞ্চল সংরক্ষণে বিশেষ প্রকল্প গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
বরিশাল নগর ও সদর এলাকার ১৬ দফা দাবি
বরিশাল সিটি করপোরেশন ও সদর এলাকার উন্নয়নে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, কীর্তনখোলা নদী ও নগরীর খাল উদ্ধার, বরিশাল ও পটুয়াখালীতে ইপিজেড স্থাপন, বরিশাল বিমানবন্দরের আধুনিকায়ন এবং পাঁচতারা হোটেল নির্মাণের দাবি উত্থাপন করা হয়েছে।
এছাড়া বরিশাল ওয়াসা ও গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা, শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ, জলাবদ্ধতা নিরসনে সমন্বিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং নগরীর সড়ক ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নের দাবিও জানানো হয়েছে।
প্রত্যাশা দক্ষিণাঞ্চলবাসীর
দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ না থেকে অঞ্চলের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন বঞ্চনা দূরীকরণে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও ঘোষণা নিয়ে আসবে। বিশেষ করে যোগাযোগ, শিল্পায়ন, পর্যটন এবং জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে দক্ষিণাঞ্চল দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে আরও বড় ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।
কাজী মিজানুর রহমান, আহ্বায়ক, বরিশালের সাধারণ নাগরিক সমাজ বলেন,
“দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়ন আর বিলম্বিত করার সুযোগ নেই। প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে আমরা বাস্তবভিত্তিক ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট দাবিগুলো তুলে ধরেছি। এগুলো বাস্তবায়িত হলে পুরো অঞ্চল অর্থনৈতিকভাবে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।”









