ছয় দিনের টানা বৃষ্টিতে কলাপাড়া উপজেলাজুড়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে কয়েক হাজার পরিবার দুর্ভোগে পড়েছে। খাল-বিল ও কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে। একই সঙ্গে ডুবে গেছে অন্তত ৪৫০টি ছোট-বড় পুকুর ও মাছের ঘের। উপজেলা মৎস্য অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এতে প্রায় দুই কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বেড়িবাঁধের বাইরের বাসিন্দারা। টানা বর্ষণ ও জোয়ারের পানির চাপে এসব এলাকার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। পাশাপাশি অন্তত এক হাজার একর জমিতে আবাদ করা গ্রীষ্মকালীন সবজিক্ষেতও হুমকির মুখে পড়েছে। ফলন্ত গাছের গোড়ায় পচন ধরার আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন পাঁচ শতাধিক সবজি চাষি।
কুমিরমারা গ্রামের কৃষক সুলতান গাজী জানান, এলাকার অধিকাংশ কৃষক করলা, ঝিঙে, লাউ, চিচিঙ্গা, দুন্দল ও শসা বিক্রি শুরু করেছেন বা বিক্রির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তবে টানা বৃষ্টিতে ক্ষেতের গাছের গোড়ায় পচন ধরার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে বৃষ্টি না থামলে ফলনধরা গাছ রক্ষা করা কঠিন হবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
কলাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আরাফাত হোসেন জানান, তিনি কৃষকদের ক্ষেত পরিদর্শন করে গাছের গোড়ায় পচন রোধে প্রয়োজনীয় স্প্রে ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, নীলগঞ্জ এলাকার অনেক কৃষক উঁচু জমিতে সবজির আবাদ করায় এবং স্লুইসগেট কৃষকদের নিয়ন্ত্রণে থাকায় এখনো অধিকাংশ ক্ষেত পানিতে তলিয়ে যায়নি।
এদিকে মহিপুর ইউনিয়ন-এর চেয়ারম্যান গাজী ফজলুর রহমান জানান, আন্ধারমানিক নদীর তীরবর্তী নিজামপুর এলাকায় প্রায় তিন কিলোমিটার বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে, যা টানা বৃষ্টিতে আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। একই ধরনের ঝুঁকিতে রয়েছে ধানখালী ও চম্পাপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের কলাপাড়া কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহআলম জানান, চার থেকে পাঁচটি পয়েন্টে জরুরি সুরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়া হলেও এখনো তিন থেকে চার কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
অন্যদিকে প্রবল বর্ষণে কলাপাড়া পৌরসভা, টিয়াখালী, নীলগঞ্জ, চাকামইয়া, লালুয়া, কুয়াকাটা পৌরসভা ও লতাচাপলী ইউনিয়নে ব্যাপক জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পানি চলাচলের খাল ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভরাট ও দখল হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান বলেন, কৃষকদের সমস্যা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি স্লুইসগেটগুলো সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের নির্দেশনা দেওয়া









