পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় দীপা রানী দাস (৫১) নামের এক এক কলেজ শিক্ষিকার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ।
নিহত দীপা রানী দাস উপজেলার রনগোপালদী ইউনিয়নের মধ্য রনগোপালদী গ্রামের শুভ্র সূচি দাসের স্ত্রী। তিনি গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলার হিজলবাড়ি গ্রামের প্রয়াত যোগেশ চন্দ্র দাসের মেয়ে এবং গলাচিপা উপজেলার উলানিয়া ইউনিয়নের স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষিকা।
স্থানীয় ও পারিবািক সূত্রে জানা যায় উপজেলার রনগোপালদী ইউনিয়নের শুভ্র দাসের সাথে গোপালগঞ্জ কেটালি পাড়ার যোগেশ চন্দ্র দাসের মেয়ে দীপা রানী দাসের সাথে বিগত ১৫-১৬ বছর আগে বিবাহ হয়। বিবাহের পর তাদের দাম্পত্য জীবন সুখ শান্তিতে অতিবাহিত হয়। তাদের একটি পুত্র সন্তান আছে। বৃহম্পতিবার মধ্যরাতে দীপা রানী দাস তার বাসার নিজেস্ব রুমে ফ্যারের সথে গলায় ওরনা পেঁচিয়ে আত্নহত্যা করেন। ছেলে মায়ের রুম বন্ধ দেখে বাবা শুভ্র দাসকে ফোন করে। পরে এলাকার লোকজন এসে রুমের জানালা দিয়ে দেখেন ফ্যানের সাথে ঝুলে আছে। পরে এালাকার লোকজন থানায় ফোন করলে ঘটনাস্থলে গিয়ে ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়। দীপা রানী দাস এর পরিবারের লোক জন খবর পেয়ে রাতেই দীপা রানীর শ্বশুর বাড়ি আসে। এসে দেখে থানা পুলিশ ঘটনা স্থলে। দীপা রানী দাসের পরিবারের অভিযোগ এ মৃত্যু স্বাভাবিক নয়। আজ শুক্রবার দুপুর ১২ ঘটিকার সময় পটুয়াখালী মর্গে পাঠানো হয়।।
নিহতের ছোট বোন রাসমনি দাস অভিযোগ করে বলেন , প্রায় ১৫ থেকে ১৬ বছর আগে দীপার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তার স্বামী শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন। চাকরির বেতন-ভাতাও স্বামীকে দিতে হতো। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিশ হলেও সমস্যার সমাধান হয়নি। রাতে খবর পেয়ে ‘আমরা ঘটনাটি স্বাভাবিক মেনে নিতে পারছি না। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনি সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নিহতের স্বামী শুভ্র সূচি দাস তিনি বলেন, ঘটনার সময় দোকানে ছিলেন। ছেলে ফোন করে জানায়, তার মা ঘরের দরজা খুলছেন না। পরে পরিবারের সদস্যরা বারান্দা দিয়ে ঘরে প্রবেশ করে দীপাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। তিনি দাবি করেন, ‘আমি কখনো তাকে শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন করিনি। কেউ এ ধরনের অভিযোগ করলে তা সত্য নয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনেই প্রকৃত বিষয় জানা যাবে।’
স্থানীয় ইউপি সদস্য নির্মল চন্দ্র বলেন, দীপা দাস শান্ত ও ভদ্র স্বভাবের ছিলেন। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মাঝে মধ্যে পারিবারিক বিরোধ হলেও পরে তারা স্বাভাবিকভাবে বসবাস করতেন। কী কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে, তা আমি বলতে পারেননি।
দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে বৃহস্পতিবার রাতেই থানায় নিয়ে আসে। শুক্রবার দুপুরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পটুয়াখালী মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।









