মোঃ মিজানুর রহমান, কুয়াকাটা: পটুয়াখালীর মহিপুরে বিএনপি’র কতিপয় লোকের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে পৈত্রিক ও ক্রয়কৃত জমি দখলের চেষ্টা, হামলা, চাঁদাবাজি এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এক প্রবাসী পরিবারের সদস্যরা।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় কুয়াকাটা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মোসাম্মাৎ ফাতিমা। তিনি অস্ট্রেলিয়ায় অধ্যয়নরত মো. মুসা গাজীর পক্ষে বক্তব্য উপস্থাপন করেন। মুসা গাজীর পিতা মজিবুর রহমান গাজী দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে মালয়েশিয়ায় প্রবাস জীবনযাপন করছেন।
লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, তাদের পরিবার কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নয়। প্রবাস জীবনের উপার্জিত অর্থ দিয়ে তারা ২০২৪ সালে ৪০ নম্বর ইউসুফপুর মৌজার বিএস ৮১৬ খতিয়ানের ২৩০৩/২৩০৭ দাগের অংশ থেকে ১ দশমিক ২৫ একর, জমি ক্রয় করেন এবং বৈধভাবে ভোগদখলে রয়েছেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, সম্প্রতি ইমরান হাওলাদার নামের এক ব্যক্তি রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে ওই জমিতে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা চালান। বিষয়টি নিয়ে মহিপুর থানায় সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলে চূড়ান্ত সমাধান না হওয়া পর্যন্ত জমিতে সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়।
তবে গত ১২ জুন ইমরান হাওলাদারসহ বেল্লাল ইসলাম গালিব (মাইকেল), মহিপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক, মহিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আইউব আলী আকন, ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক তাওয়াব সরদার এবং রাসেল মাহমুদ ভেকু দিয়ে জমিতে মাটি কাটা শুরু করেন বলে অভিযোগ করা হয়।
এ সময় বাধা দিতে গেলে মুসা গাজীর চাচাদের মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় এবং মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করা হয় বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়। এ ঘটনায় আব্দুল মতিন গাজী মহিপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং- আর ১১৬/২৬) করেন।
পরবর্তীতে ২১ জুন কলাপাড়া আদালতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন করা হলেও অভিযুক্তরা তা উপেক্ষা করে ২৩ জুন পুনরায় জমিতে স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়। এ সময় বাধা দিতে গেলে আব্দুল মতিন গাজী, শহিদুল গাজী ও দেলোয়ার দুয়ারির ওপর হামলা চালানো হয়। এতে আব্দুল মতিন গাজী গুরুতর আহত হন। পরে তাকে প্রথমে কলাপাড়া হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, স্থানীয়ভাবে কোনো প্রতিকার না পেয়ে তারা ৯৯৯-এ কল করে পুলিশের সহায়তা চান। বর্তমানে পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলেও দাবি করা হয়।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে অবৈধ দখল, হামলা ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান সংবাদ সম্মেলনকারীরা।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইমরান হাওলাদার বলেন, আমার জমিতে আমি কাজ করেছি। কারও কাছে কোনো টাকা-পয়সা চাওয়া হয়নি। আদালতের কোনো নোটিশও আমি পাইনি।
মহিপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক বেলাল গালিব বলেন, বাজারে যাওয়ার পথে বিরোধপূর্ণ জমিতে লোকজনের ভিড় দেখে সেখানে যাই। পরে আমাদের জড়িয়ে আদালতে মামলা ও থানায় জিডি করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে মহিপুর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহজাহান পারভেজ বলেন, “মুসার পরিবার আমাদের কাছে এসেছিল। আমরা উভয় পক্ষকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পর্যালোচনা করে সমাধানের পথে এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছি। তারা জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে আইনের আশ্রয় নেবেন। এ ক্ষেত্রে আমরা স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছি, আমাদের দলের কোনো নেতাকর্মী সেখানে যাবে না। এরপরও দলের কেউ সেখানে গেলে, তার বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এ ব্যাপারে মহিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শামীম হাওলাদার বলেন, প্রবাসীর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। বিষয়টির সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্টদের কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।









