মোঃ মহিম ইসলাম, মোংলা (বাগেরহাট): নবায়নযোগ্য জ্বালানি কেবলমাত্র শক্তির উৎস না বরং এটি সামাজিক পরিবর্তন, অর্থনৈতিক অন্তর্ভূক্তি এবং জলবায়ু সহনশীল ভবিষ্যতের ভিত্তি। জ্বালানির আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহ লাইনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির ফলে দেশে সংকট তৈরি হচ্ছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। সামগ্রিক অবস্থার জন্য আমদানি নির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানি নীতিই দায়ী। জাতীয় বাজেটে সবুজ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎস এবং সংশ্লিষ্ট যন্ত্রাংশের উপর কর রেয়াত এবং প্রণোদনা দিতে হবে।
৫ জুন (শুক্রবার) সকালে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে মোংলার মৈদাড়ায় মানববন্ধন ও সমাবেশে বক্তারা একথা বলেন। ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ, সুন্দরবন রক্ষায় আমরা ও পশুর রিভার ওয়াটারকিপারের আয়োজনে এ মানববন্ধন—সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান জলবায়ু সংকট মোকাবেলা, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা হ্রাস এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির দ্রুত ও ন্যায্য রূপান্তরের দাবিতে এ মানববন্ধন—সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
শুক্রবার সকাল ৯টায় ”ইনস্পায়ার্ড বাই ন্যাচার, ফর ক্লাইমেট, ফর আওয়ার ফিউচার” প্রতিপাদ্যে বিশ্ব পরিবেশ দিবসের মানববন্ধন—সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সুন্দরবন রক্ষায় আমরা’র সমন্বয়কারী পশুর রিভার ওয়াটারকিপার মোঃ নূর আলম শেখ। মানববন্ধন ও সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) এর নেতা এ্যাড. সার্বভৌম রায়, মোংলা উপজেলা জেলে সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ হা্ওলাদার, ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ’র কমলা সরকার, পশুর রিভার ওয়াটারকিপার ভলান্টিয়ার নাজমুল হক, রাকেশ সানা, অসীমা মন্ডল, মেহেদী হাসান প্রমূখ।
সভাপতির বক্তব্যে পশুর রিভার ওয়াটারকিপার ও সুন্দরবন রক্ষায় আমরা’র সমন্বয়কারী মোঃ নূর আলম শেখ বলেন সুন্দরবন বিনাশী রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র পশুর নদীর জলজপ্রাণী ও সুন্দরবনের বাস্ততন্ত্র ধ্বংস করছে। জলবায়ু পরিবর্তনের হারকে হ্রাস করতে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য সবুজ পৃথিবী নির্মানের লক্ষ্যে জীবাশ্ম জ্বালানির পরিবর্তে টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির কোন বিকল্প নেই। মানববন্ধন ও সমাবেশে জেলে সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ হাওলাদার বলেন দূষনের বেড়ে যাওয়ায় পশুর নদী ও সুন্দরবনে মাছের আকাল দেখা যাচ্ছে।
সুন্দরবনের প্রাণবৈচিত্র রক্ষায় নদী দূষণ রোধ করতে হবে। ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ’র কমলা সরকার বলেন একটি ন্যায্য ও টেকসই জ্বালানি রূপান্তরের জন্য ছাদভিত্তিক সৌর বিদ্যুৎ সম্প্রসারণ এবং শিল্পখাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার আরো জোরদার করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুতের লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে সরকারকে সুস্পষ্ঠ রোডম্যাপ ঘোষণা করতে হবে।









