হায়াতুজ্জামান মিরাজ, আমতলী (বরগুনা): বরগুনার আমতলীতে তালাকের কথা গোপন রেখে সাবেক স্ত্রীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগে মুছা নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বুধবার (১৩ মে) বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল মামলাটি দায়ের করা হয়।
ট্রাইব্যুনালের বিজ্ঞ বিচারক ও জেলা দায়রা জজ মো. ওসমান গনি মামলাটি গ্রহণ করে বরগুনা জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।
মামলার আসামি উপজেলার আঠারগাছিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম সোনাখালী গ্রামের মো. রশিদ হাওলাদারের ছেলে মো.মুছা (৪১)।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওই ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি অ্যাড. রনজুয়ারা সিপু।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০০৮ সালে ভুক্তভোগীর সঙ্গে আসামির বিয়ে হয়। তাদের সংসারে দুইটি সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর বিভিন্ন সময় যৌতুক দাবিকে কেন্দ্র করে দাম্পত্য কলহের সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে ভুক্তভোগী একাধিকবার মামলাও করেছিলেন। পরে আপোসের মাধ্যমে সেসব মামলা প্রত্যাহার করা হয়।
অভিযোগে আরো বলা হয়, গত বছরের ১ ডিসেম্বর আসামি ভুক্তভোগীকে না জানিয়ে রেজিস্ট্রির মাধ্যমে স্ত্রীকে তালাক দেন এবং বিষয়টি গোপন রাখেন। ভুক্তভোগী তখনও স্বামীর বাড়িতে সংসার করছিলেন। তার দাবি, তালাকের বিষয়টি গোপন রেখে আসামি একাধিকবার তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেন। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে তাকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, তিনি আসামিকে তখনও নিজের স্বামী হিসেবেই জানতেন, কিন্তু আসামি জানতেন বৈবাহিক সম্পর্কের অবসান ঘটেছে। সেই সুযোগে প্রতারণার মাধ্যমে তাকে বারবার ধর্ষণ করা হয়েছে।
ওই বিষয় জানতে আসামি মুছার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও তা বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বরগুনা জেলা গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, আদালতের আদেশ এখনও হাতে পাইনি। আদেশ হাতে পেলে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করা হবে।








