পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার বকুলবাড়িয়া ইউনিয়নে সুতাবাড়িয়া নদী ভাঙন চরম আকার ধারণ করেছে। ভাঙনের তীব্রতায় রনুয়া বাজারের পূর্ব পাশের খেয়া থেকে মোল্লা বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ৫০ একর বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। গত কয়েক বছরে নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে প্রায় ৫০ থেকে ৬০টি পরিবারের বসতঘর।
সরেজমিনে দেখা যায়, সুতাবারিয়া নদীর ভাঙন এখন রনুয়া বাজারের খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে। নদীগর্ভে বিলীন হওয়া পরিবারগুলোর বসতভিটা, গাছপালা ও ফসলি জমি এখন শুধুই স্মৃতি। ভিটেমাটি হারানো মানুষের আহাজারিতে সেখানকার পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। যাদের ঘরবাড়ি এখনো অবশিষ্ট আছে, তারাও চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। যে কোনো সময় তাদের বসতভিটাও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
বর্তমানে ভাঙনের ওই স্থান থেকে আনুমানিক ১২ মিটার দুরত্বে রয়েছে কাঞ্চন বিবি গ্রামীণ স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র, ৩০ মিটার দুরত্বে বাজার মসজিদ, ৫০ মিটার দুরত্বে আলহাজ্ব আবদুল খালেক মোল্লা নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৬৫ মিটার দুরত্বে আলহাজ্ব সৈয়দ আলী মোল্লা হাফিজিয়া মাদ্রাসা, ৭০ মিটার দুরত্বে ১০৮ নং দোয়ানি পটুয়াখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৩০ মিটার দুরত্বে জৈনপুরী পীর সাহেবের খানকা শরীফ।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী জানান, বছরের পর বছর ধরে এই ভাঙন চললেও স্থায়ী কোনো সমাধান বা টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ভাঙন রোধে দ্রুত বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা বা স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন তারা।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, ভাঙন কবলিত এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলার কোনো কার্যক্রম পরিলক্ষিত হয়নি। ফলে ভাঙনের গতিবেগ দিন দিন বাড়ছে। এতে করে বাজারের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোও হুমকির মুখে পড়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো দ্রুত সরকারি সহায়তা এবং ভাঙন রোধে টেকসই সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন।
পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী (পুর) মোঃ রাকিব বলেন, আমরা সরেজমিন পরিদর্শন করে এবং ওখানকার নদীর গভীরতা সার্ভে করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।









