পটুয়াখালীর বিভিন্ন উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড় ও টানা টানা ২দিন ভারি বৃষ্টিতে মুগ ডাল সহ বিভিন্ন রবি ফসলের ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে উপজেলার কয়েকশত কৃষক চরম ক্ষতির আশঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার বিকেলে থেকে টানা দুই দিনের ভারি বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ায় উপজেলার নিচু জমিগুলোতে পানি তলিয়ে যায়। ফলে মুগ ডাল, মরিচ, আলু, চিনাবাদাম, সূর্যমুখী, ভুট্টা ক্ষেত সম্পূর্ণ ডুবে ফসলেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষেতেই গাছ নষ্ট হওয়ার উপক্রম হওয়ায় ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় সব হারিয়ে কৃষকরা দিশেহারা।
দুমকি উপজেলার আঠারগাছিয়া গ্রামের কৃষক খালেক সিকদার, রুহুল আমিন, সুলতান শিকদার জানান, ভালো ফলন হওয়ায় প্রতিবছরের ন্যায় এবছরও মুগ ডালের আবাদ করছি। আংশিক ফসল তুলতে পারলেও অধিকাংশ ক্ষেতেই ফসল মাঠেই রয়ে গেছে। দ্রুত পানি না নামলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
একই উপজেলার লেবুখালী এলাকার কৃষক মোস্তফা শরীফ বলেন, “আমাদের এলাকায় এমন কোনো কৃষক নেই, যার অন্তত ৪০/৫০ শতাংশের জমির মুগডাল নষ্ট হয়নি। গ্রামের সবাই এখন দিশেহারা।”
সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলার বিভিন্ন উপজেলার বিস্তীর্ণ জমি পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে। উপজেলার উল্লেখযোগ্য খালগুলিতে বাঁধ থাকায় নদীর পানি কমে গেলেও ক্ষেতের পানি দ্রুত কমেছে না। পানি জমে থাকলে ফসল পুরাপুরি নষ্ট হয়ে ক্ষতির পরিমান বেড়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে।
এ বিষয়ে দুমকি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ইমরান হোসেন জানান, দুই দিনের টানা বর্ষনে মাঠে পানি জমে যাওয়ায় মুগ ডালের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তা দেওয়া হবে।









