দেশ এগিয়েছে, বদলেছে সময়; পাল্টেছে সরকার—কিন্তু বদলায়নি পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বগা ইউনিয়নের বামনিকাঠীর একটি সড়কের ভাগ্য। স্বাধীনতার পর থেকে আজও কাঁচা পড়ে আছে প্রায় ২ কিলোমিটার এই সড়ক। উন্নয়নের নানা গল্পের মাঝেও এই সড়ক যেন অবহেলার এক নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
বামনিকাঠী কে.সি.কে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে থেকে দেবেন্দ্র হাওলাদারের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার সড়কটি চারটি গ্রামের—বামনিকাঠী, কায়না, কৌখালী ও দক্ষিণ কৌখালীর মানুষের একমাত্র যাতায়াতের পথ। প্রতিদিন প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থী, মসজিদের মুসল্লি এবং শত শত সাধারণ মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করেন। কিন্তু বর্ষা এলেই সড়কটি হাঁটুসমান কাদায় ডুবে যায়। তখন ভ্যান, অটোরিকশা, সাইকেল বা মোটরসাইকেল চলাচল তো দূরের কথা, পায়ে হেঁটেও চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়ে।
সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ে শিক্ষার্থীরা। কাদা-পানিতে ভিজে নষ্ট হয় তাদের পোশাক, অনেকেই সময়মতো বিদ্যালয়ে যেতে পারে না। দূরের শিক্ষার্থীরা সাইকেল নিয়ে বের হলেও মাঝপথেই ফিরে যেতে বাধ্য হয়।
জরুরি পরিস্থিতিতে এই সড়ক হয়ে ওঠে এক ভয়াবহ বাধা। অসুস্থ রোগী বা গর্ভবতী নারীকে হাসপাতালে নিতে হলে অনেক সময় কাঁধে করে পাকা সড়কে পৌঁছাতে হয়।
সড়কটির আইডি নম্বর ৫৭৮৩৮৫১৫৮। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ এলাকায় প্রায় ৫-৬ হাজার মানুষের বসবাস। ২০২১-২২ অর্থবছরে (বিবিজি) ২,৯৮,১০০ টাকা ব্যয়ে সড়কের মাঝখানে আংশিক ইটের সলিং করা হলেও দুই পাশ এখনো কাঁচাই রয়ে গেছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কটি আবার কাদা ও পানিতে একাকার হয়ে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দা লালমিয়া মাঝি, খালেক মাঝি, বয়তুল রাড়ী, জয়নাল মাঝি, নজরুল রাড়ী, সুলতান মাঝি ও শেমল মিস্ত্রি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা চরম অবহেলিত এলাকার মানুষ। ৫৫ বছর ধরে শুনছি রাস্তার টেন্ডার পাশ হয়েছে, কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো কাজ চোখে দেখিনি। বয়স্ক মানুষ আর রোগীদের কাঁধে করে পাকা রাস্তায় নিতে হয়। বর্ষায় কাদা আর পানিতে চলাচল একেবারেই অসম্ভব হয়ে পড়ে। এ কারণে অনেক শিশু স্কুলে যেতেও চায় না।’
বামনিকাঠী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক খালেক মাঝি ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক উত্তম কুমার পাল বলেন, ‘সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হওয়ায় শিক্ষার্থীরা নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসতে পারে না। বর্ষাকালে কাদায় ভিজে তাদের ইউনিফর্ম নষ্ট হয়, অনেক সময় অসুস্থও হয়ে পড়ে। দ্রুত সড়কটি পাকাকরণের দাবি জানান তারা।’
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সরকার ও জনপ্রতিনিধি পরিবর্তন হলেও তাদের এই সড়কের ভাগ্যে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি।
এ বিষয়ে ইউপি সদস্য গনি মল্লিক বলেন, ‘রাস্তার কারণে এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা কষ্ট পাচ্ছে। উপজেলা কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত সংস্কারের চেষ্টা করবো।’
উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. আরজুরুল হক জানান, ‘সড়কটির উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় আবেদনপত্র, স্থানীয় সংসদ সদস্যের সুপারিশ, পূর্ণ ঠিকানা এবং রাস্তার আইডিসহ কাগজপত্র জমা দিতে হবে। নতুন প্রকল্প গ্রহণ করা হলে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’









