দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরে স্থায়ী প্রধান কর্মকর্তা নেই। ফলে স্থবির হয়ে পড়েছে উপজেলার প্রশাসনিক ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম। গুরুত্বপূর্ণ সেবা পেতে সাধারণ মানুষকে পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি, যা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
উপজেলা প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পদটি প্রায় এক মাস ধরে শূন্য। গত ২৬ মার্চ ফরিদা সুলতানা বদলি হওয়ার পর থেকে পার্শ্ববর্তী পটুয়াখালী সদর উপজেলার ইউএনও রওজাতুন জান্নাত অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি সপ্তাহে সীমিত সময় দুমকিতে অবস্থান করায় নীতিনির্ধারণী ও জরুরি ফাইলগুলো আটকে থাকছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে ভূমি সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ও জন্মনিবন্ধনসহ নাগরিক সেবা প্রদানে।
উপজেলার শিক্ষা ও খাদ্য ব্যবস্থাপনার অবস্থাও তথৈবচ। মাধ্যমিক শিক্ষা গত বছরের জুলাই থেকে এই পদটি শূন্য। মির্জাগঞ্জ উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকায় নিয়মিত দাপ্তরিক কাজ ও তদারকি ব্যাহত হচ্ছে।
খাদ্য বিভাগ গত বছরের জুন থেকে স্থায়ী খাদ্য কর্মকর্তা নেই। ফলে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি ও সরকারি খাদ্য ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়ের বড় অভাব দেখা দিয়েছে।
মৎস্য অধিদপ্তর এক বছরের বেশি সময় ধরে স্থায়ী কর্মকর্তা না থাকায় উপকূলীয় এই অঞ্চলের মৎস্য খাতে মাঠ পর্যায়ের তদারকি প্রায় বন্ধের পথে। পরিসংখ্যান অফিস গত ৩ বছর ধরে ভারপ্রাপ্ত দিয়ে চলছে এই দপ্তর। ফলে সরকারি তথ্য সংগ্রহ ও হালনাগাদ কার্যক্রম গতি হারিয়েছে।
স্থানীয় নাসিমা কেরামত আলী বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাজী মাকসুদুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন
জরুরি কাগজপত্রে একটি স্বাক্ষরের জন্য সপ্তাহের পর সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা নিয়মিত না থাকায় আমাদের কাজের গতি একদম কমে গেছে।
অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউএনও রওজাতুন জান্নাত স্বীকার করেন সীমাবদ্ধতার কথা। তিনি জানান, দুটি উপজেলা একসাথে পরিচালনা করা চ্যালেঞ্জিং হলেও তিনি সেবার ধারাবাহিকতা রাখার চেষ্টা করছেন।
পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক (ডিসি) ড. মো. শহীদ হোসেন চৌধুরী বলেন ইউএনও পদ শূন্য থাকার বিষয়টি বিভাগীয় কমিশনারকে জানানো হয়েছে। আশা করছি দ্রুতই এখানে স্থায়ী কর্মকর্তা পদায়ন করা হবে। এছাড়া অন্যান্য দপ্তরের শূন্য পদগুলোর বিষয়েও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সচেতন মহলের দাবি শুধু মৌখিক আশ্বাস নয়, দুমকির উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে গতি ফেরাতে এবং জনভোগান্তি কমাতে অবিলম্বে সবগুলো গুরুত্বপূর্ণ পদে স্থায়ী ও দক্ষ কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া এখন সময়ের দাবি।









