বাউফল প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার আলোচিত ও বিতর্কিত ব্যক্তি শানু হাওলাদারকে বিএনপির কমিটির সদস্যপদ দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক তসলিম তালুকদার ও সদস্য সচিব আপেল মাহমুদ ফিরোজ স্বাক্ষরিত গত সোমবার স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে বাউফল ইউনিয়ন বিএনপি কমিটির সদস্য পদ দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে বাউফল ইউনিয়ন শাখা বিএনপি কমিটির সভাপতি মো. ফারুক হোসেন বলেন,তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না। তবে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে জেনেছেন।
এদিকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন থানায় ছিনতাই ও চুরির একাধিক মামলার আসামি শানু হাওলাদারকে বিএনপির কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করায় দলীয় নেতা-কর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা করছেন।
দলীয় সুত্রে জানা গেছে, শানু হাওলাদার ছিলেন উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও জেলা যুবদলের সদস্য।
২০২২ সালের ৯ অক্টোবর ফরিদপুর জেলা সদরেরর ফলপট্টি এলাকায় ইজিবাইক চুরি করতে গিয়ে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন শানু। পরে ওই ঘটনায় ১১ অক্টোবর কেন্দ্রীয় যুবদল তাঁকে বহিস্কার করে।
তৎকালীন কেন্দ্রীয় যুবদলের দপ্তরের দায়িত্বে থাকা সহসভাপতি কামরুজ্জামান দুলালের স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছিল, নৈতিক স্থলন জনিত নানা কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগ থাকায় জাতীয়তাবাদী বাউফল উপজেলা শাখা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায় ও পটুয়াখালী জেলা যুবদলের সদস্য শানু হাওলাদারকে যুবদলের সকল পথ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নথিতে তাঁর বিরুদ্ধে ডজনখানেকেরও বেশি চুরি ও ছিনতাইয়ের মামলা রয়েছে। একাধিকবার গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার বিলবিলাস গ্রামের একটি দরিদ্র পরিবারের সন্তান শানু হাওলাদার। এক সময় অভাবের সংসার ছেড়ে ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় ঢাকায় পাড়ি জমান শানু। সেখানে বিভিন্ন বাসাবাড়িতে কেয়ারটেকারের কাজ করতেন। পরে এলাকায় ফিরে নিজেকে ঢাকার ব্যবসায়ী এবং বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করেন।
এরপরে ধীরে ধীরে এলাকায় দরিদ্র মানুষের মাঝে নগদ অর্থ, চাল, ডাল ও কাপড় বিতরণ করে সামাজিকভাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। সেই জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করে তিনি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য (মেম্বার) নির্বাচিত হন।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, শানু হাওলাদারের নেতৃত্বে সারাদেশব্যাপী একটি সংঘবদ্ধ সিএনজি, ট্যাক্সি, অটোরিকশা, ইজিবাইক চোরচক্র সক্রিয় আছে বলে অভিযোগ রয়েছে। চক্রের সদস্যরা যাত্রী সেজে বিভিন্ন যানবাহনে উঠে চালকদের অজ্ঞান করে গাড়ি ছিনতাই করে। এছাড়া রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার কিছু দারোয়ান ও কেয়ারটেকারের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলে বাসাবাড়িতে চুরি সংঘটনের অভিযোগও রয়েছে ওই চক্রের বিরুদ্ধে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা বিএনপির এক প্রবীণ নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,’বাউফল বিএনপির এমনই দুরাবস্থা যে একজন চিহ্নিত চোরকে বিএনপির সদস্য করতে হয়েছে।’ তিনি ধারনা করছেন মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তাঁকে (শানু) বিএনপির পদ দেওয়া হয়েছে।
আরেক নেতা বলেন, এখন রাজনীতি করতে যোগ্যতা লাগে না। টাকা হলেই নেতা হওয়া যায়।
শানু হাওলাদার বলেন,তাঁকে বহিস্কার করা হলেও পরে তা আবার প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে বিভিন্ন চুরি মামলা দেওয়া হয়েছে। অনেক মামলা থেকেই তিনি খালাস পেয়েছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক তসলিম তালুকদার বলেন,টাকার বিনিময়ে শানু হাওলাদারকে কমিটির সদস্য করার অভিযোগ সত্য নয়। তাহলে একজন বিতর্কিত ব্যক্তিকে বিএনপির কমিটিতে সদস্য করা হলো কেনো? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যুবদল তাঁর বহিস্কার আদেশ প্রত্যাহার করেছে বলে ইউনিয়ন বিএনপির কমিটিতে সদস্য পদ দেওয়া হয়েছে।









