পটুয়াখালী জেলাজুড়ে সংক্রামক ব্যাধি হামের প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। বিশেষ করে শিশুরাই এই রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে, তবে অনেক ক্ষেত্রে প্রাপ্তবয়স্কদেরও আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে।
সোমবার (২০ এপ্রিল) সরেজমিনে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি রোগী ভর্তি হওয়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে। হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডের মাত্র ৩১টি শয্যার বিপরীতে সেখানে ৮ জন প্রাপ্তবয়স্ক ও ১০৭ জন শিশুসহ মোট ১১৫ জন রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। শয্যা সংকটের কারণে প্রতি সিটে ৪-৫ শিশুকে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এমনকি হাসপাতালের মেঝেতেও অনেক রোগীকে অবস্থান করতে দেখা গেছে।
জেলা সিভিল সার্জন অফিসের তথ্য অনুযায়ী, বছরের শুরু থেকেই হামের রোগীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করলেও এপ্রিল মাসে এসে এটি প্রকট আকার ধারণ করে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে। অনেক রোগীর নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে রোববার (১৯ এপ্রিল) রাত ৯ টা পর্যন্ত সন্দেহজনক হামের রোগীর সংখ্যা ৪৩১ জন, হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৪০৬ জন, হাসপাতাল থেকে ছুটি পাওয়া রোগীর সংখ্যা ৩০২ জন, নমুনা ঢাকায় পাঠানোর সংখ্যা ১১৪ জন এবং পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হওয়া হামের রোগী ৯ জন।
পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ও বায়ুবাহিত রোগ। একজন আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে প্রায় ১৮ জন সংক্রমিত হতে পারে। সময়মতো যথাযথভাবে হামের টিকা (এমআর টিকা) গ্রহণ না করাই এই প্রাদুর্ভাবের অন্যতম প্রধান কারণ বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা। তারা অভিভাবকদের পরামর্শ দিচ্ছেন যে, যদি কোনো শিশুর তীব্র জ্বর এবং শরীরে লালচে দানা বা র্যাশ দেখা দেয়, তবে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
পটুয়াখালীর সিভিল সার্জন ডা: মোহাম্মদ খালেদুর রহমান মিয়া জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্বাস্থ্য বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে। সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন উপজেলায় কো-অর্ডিনেশন সভা করা হচ্ছে। যেসব এলাকায় প্রকোপ বেশি, সেখানে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা হয়েছে এবং আক্রান্ত রোগীদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।
হাম প্রতিরোধে শিশুদের নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করার পাশাপাশি আক্রান্ত শিশুদের আলাদা রাখার জন্য অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।









