কলাপাড়া প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ধানখালী ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের নেমপ্লেট খুলে কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেয়ার ঘটনায় দুই দিন পরে একই কলেজের চারজন শিক্ষক ও চতুর্থ শ্রেণির এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ এই মামলা করেছেন। বুধবার কলাপাড়া থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়।
এ মামলায় সহকারী অধ্যাপক মো. মাসুম বিল্লাহ, সহকারী অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন সিকদার, সহকারী অধ্যাপক সজল চন্দ্র ভাট, প্রভাষক তৌহিদুল ইসলাম এবং চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী মো.মোশারফ মৃধা।
মামলার বিবরনে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ৬ জুন তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার আদেশ বলে আবুল কালাম আজাদ ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষর দায়িত্ব গ্রহন করেন। তিনি সুনামের সাথে কলেজ পরিচালনা করে আসছিলেন। তিনি মামলায় দাবি করেন, আসামিরা প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি সাধনের পাশাপাশি কলেজকে আওয়ামী করনের চক্রান্ত করে আসছিল।
এছাড়া আসামিরা ঘটনার দিন তাঁর (ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ’র) নাম ধরে গালাগাল করে মব সৃষ্টির মাধ্যমে তাঁর পথরোধ করে বিশৃঙ্খল পরিবেশের সৃষ্টি করেছে যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
তিনি দাবি করেন, পূর্বে কলেজের প্রশাসনিক অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে একটি পক্ষ ক্ষুব্ধ হয়ে তার বিরুদ্ধে নানা মিথ্যা অভিযোগ তুলে তাকে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছে।
এমনকি তার দায়িত্ব পালনে বাঁধা, মানসিক চাপ প্রয়োগ এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। কিছু ব্যক্তি জোরপূর্বক কলেজের প্রশাসনিক কার্যক্রমে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করছে এবং শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটছে এবং প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
এ বিষয়ে শিক্ষক আনোয়ার হোসেন বলেন, আবুল কালাম আজাদ অবৈধভাবে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসাবে পদ দখল করে আছেন তাই আমরা সকল শিক্ষকরা মিলে তার কক্ষে তালা এবং নেমপ্লেট খুলে ফেলছি।
এছাড়া তার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগের প্রমাণ আছে । আগামী শনিবার এ বিষয়ে ফয়সালার জন্য আলোচনা হবার কথা। বিষয়টি সমাধান না হলে আমরা শিক্ষকরা মিলে কঠোর আন্দোলন ও মানহানি মামলা দায়ের করবো।
তিনি আরো বলেন, জেষ্ঠতা লংঘন করে আবুল কালাম আজাদ মামলার হুমকি দিয়ে মব সৃষ্টি করে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের চেয়ার দখল করেছিলেন।
কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম বলেন, ধানখালি ডিগ্রি কলেজের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা হয়েছে। তদন্তপূর্বক সত্যতা যাচাই বাছাই করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।









