পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে দ্রুত সিসিইউ ইউনিট চালু এবং সংশ্লিষ্ট ভবন হাসপাতালের নিকট হস্তান্তরের দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।
সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী-এর কাছে পটুয়াখালী জেলা বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট তৌফিক আলী খান কবিরের নেতৃত্বে পটুয়াখালীর সচেতন নাগরিকবৃন্দের ব্যানারে এ স্মারকলিপি প্রদান করা হয় । পরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে তা স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রীর কাছে প্রেরণ করা হয়।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রতিদিনই রোগীর চাপ বাড়ছে। শয্যা সংকটের কারণে অনেক রোগীকে বারান্দা ও মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে, যা চিকিৎসাসেবার মানকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে।
এতে আরও বলা হয়, ২০১৪ সালে ২৫০ শয্যার হাসপাতালের অবকাঠামোর মধ্যেই মেডিকেল কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। সে সময় হৃদরোগীদের জরুরি চিকিৎসার জন্য একটি পৃথক তিনতলা সিসিইউ ভবন নির্মাণ করা হলেও তা একাডেমিক কাজে ব্যবহৃত হওয়ায় এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা সম্ভব হয়নি।
বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ৮ থেকে ১০ জন হৃদরোগী হাসপাতালে ভর্তি হলেও সিসিইউ সুবিধা না থাকায় মেডিসিন বিভাগের সীমিত পরিসরে মাত্র কয়েকটি বেডে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ফলে গুরুতর রোগীরা উন্নত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, নতুন ভবনে মেডিকেল কলেজ স্থানান্তরের পরও সিসিইউ ভবনটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর না করে ছাত্রী হোস্টেল হিসেবে ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
এদিকে সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে পটুয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য এয়ার ভাইস মার্শাল (অব:) আলতাফ হোসেন চৌধুরী তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে সিসিইউ ইউনিট চালুর কথা উল্লেখ করেছিলেন, যা স্থানীয় জনগণের প্রত্যাশাকে আরও জোরালো করেছে।
স্মারকলিপিতে তিন দফা দাবি জানানো হয় সিসিইউ ভবন দ্রুত হাসপাতালের নিকট হস্তান্তর, পূর্ণাঙ্গ সিসিইউ ইউনিট চালু এবং প্রয়োজনীয় জনবল ও আধুনিক যন্ত্রপাতি নিশ্চিত করা।
এ সময় শিক্ষক, সাংবাদিক, আইনজীবীসহ শহরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।









