সাধারণ নাগরিক ও প্রশাসনের মধ্যকার দূরত্ব কমিয়ে জবাবদিহিতা নিশ্চিতে পটুয়াখালীতে অনুষ্ঠিত হলো জেলার প্রথম তথ্য-ভিত্তিক বা ‘ডেটা-ড্রিভেন’ টাউনহল মিটিং। প্রথাগত অভিযোগের বদলে সম্পূর্ণ জিপিএস-ট্যাগড (GPS-tagged) ও যাচাইকৃত তথ্যের ভিত্তিতে নাগরিক সমস্যা সমাধানে তরুণদের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে।
সোসাইটি ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি (এসডিএ) সেন্টারে তরুণদের সংগঠন ‘ফর দ্যা লাইট’-এর উদ্যোগে এবং ‘প্রজেক্ট ট্রেস (Project TRACE)’-এর আওতায় এই সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা ও মূল প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সংগঠনটির এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর আলামিন।
ডিজিটাল ডেমোক্রেসি ইনিশিয়েটিভ (DDI), অ্যাকাউন্ট্যাবিলিটি ল্যাব এবং সিভিকাস-এর সহায়তায় পরিচালিত এ প্রকল্পে স্থানীয় একদল তরুণকে ‘ডিজিটাল সিভিক অ্যাম্বাসেডর’ হিসেবে গড়ে তোলা হয়। তারা ‘কমিউনিটি ওয়াচ পোর্টাল’-এর মাধ্যমে জরাজীর্ণ অবকাঠামো, জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি ও পরিবেশ দূষণসহ ৬০টির বেশি নাগরিক সমস্যার প্রমাণসহ ডেটা সংগ্রহ করেন। টাউনহলে এসব তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি একটি পূর্ণাঙ্গ ‘সিভিক অ্যাসেসমেন্ট হোয়াইটপেপার’ বা শ্বেতপত্র প্রশাসনের সামনে তুলে ধরা হয়।
ব্যতিক্রমী এই আয়োজনে সরকারি কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সুশীল সমাজের ৩০ জন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধি অংশ নেন।তরুণদের এই প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগের প্রশংসা করে পটুয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. সাজিদুল ইসলাম সজল বলেন, “তরুণরা যেভাবে সুনির্দিষ্ট লোকেশন ও ছবিসহ ডেটা তুলে ধরেছে, তা সত্যিই অভাবনীয়। এমন তথ্যভিত্তিক ডেটা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে ব্যাপক সহায়তা করবে।”
জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, “সঠিক তথ্যের অভাবে অনেক প্রান্তিক সমস্যা অগোচরে থেকে যায়। এই শ্বেতপত্র প্রশাসনের নীতিনির্ধারণ ও সঠিক খাতে বাজেট বরাদ্দে দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে।”
এছাড়া এসডিএ-এর নির্বাহী পরিচালক কে এম এনায়েত হোসেন এবং ব্লাস্ট (BLAST)-এর জেলা সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট আবু বকর সিদ্দিক এটিকে ‘টেকসই উন্নয়নের চমৎকার মডেল’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। অনুষ্ঠানে শুকতারা মহিলা সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মাহফুজা ইসলাম এবং জেলা শিশু নিরাপত্তা কমিটির সভাপতি এস এম দেলোয়ার হোসেন দিলীপ দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন।
শ্বেতপত্রে উঠে আসা সমস্যাগুলো সমাধানে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের ইতিবাচক রূপরেখা প্রণয়নের পর, প্রশাসন ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মাঝে সম্প্রীতির প্রতীক হিসেবে এক অনাড়ম্বর ইফতার মাহফিলের মধ্য দিয়ে আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।









